শাহজালাল ও মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নে বড় প্রকল্প অনুমোদন

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ০৪:৫৩ এএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়নে কনসালট্যান্সি সার্ভিসের জন্য ক্রয় প্রস্তাবসহ মোট পাঁচটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়নে কনসালট্যান্সি সার্ভিসের জন্য ৪৬৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনে স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোর্ড পাইলস ব্যবহারের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির ১৭তম সভায় এ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অনুপস্থিতিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সাংবাদিকদের জানান, সভায় মোট পাঁচটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন  ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দুটি, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি ও বিদ্যুৎ বিভাগের দুটি।

তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবের মধ্যে একটি কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবটি অনেক বড় একটি প্রস্তাব। আমাদের প্রাধিকার প্রকল্পের একটি। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে পর্যটকদের আকর্ষণের স্থান হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫০ টাকার একটি প্রকল্প সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজটি পেয়েছে চায়নার সিআরসি কোম্পানি।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে দ্বিতীয় প্রস্তাব হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনের স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোর্ড পাইলস ব্যবহারের ভেরিয়েশন বা কার্যবিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি প্রকল্প। আমরা চাচ্ছি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানের একটা বিমানবন্দর হোক। এ বিমানবন্দরটির তৃতীয় টার্মিনালটি নির্মাণ হলে সারা বিশ্বের কাছে বলতে পারব আমাদেরও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর রয়েছে। এ প্রকল্পটি স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোর্ড পাইলসে করার জন্য সুপারিশ করেছি। এতে করে দাম কমে গেছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টার প্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায়। ২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এছাড়া সব ধরনের সাপোর্ট দেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। তৃতীয় টার্মিনালের ভবন হবে তিনতলা। ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ ভবনটির নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি এনওসিডি-জেভি জয়েন্টভেঞ্চার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন (প্রাইভেট) লিমিটেডের (সিঙ্গাপুর) স্থপতি। তৃতীয় টার্মিনালের বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস (নিজ-সেবা) চেকইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেকইন কাউন্টার থাকবে।

এছাড়া ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ মোট ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে। আগমনীর ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেকইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট এবং ১৯টি চেকইন অ্যারাইভেল কাউন্টার থাকবে। টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে।

অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য চারটি পৃথক বেল্ট স্থাপন করা হবে। তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে প্রকল্পের প্রথম ধাপে কোনো যোগাযোগব্যবস্থা থাকবে না। তবে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে কানেকটিং করিডোরের মাধ্যমে পুরনো টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং বিল্ডিং ভবন নির্মাণ করা হবে, সেখানে ১ হাজার ৪৪টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

অন্যদিকে মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়নে কনসালট্যান্সি সার্ভিসের জন্য ৪৬৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ক্রয় প্রস্তাবসহ মোটা পাঁচটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অংশে কনসালট্যান্সি সার্ভিস ফর ডিটেল ডিজাইন, ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড সার্ভিস ফর ডিটেল ডিজাইন, ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মাতারবাড়ী পোর্ট উন্নয়ন প্রকল্প পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। এটা অনেক বড় একটা প্রকল্প। কনসালট্যান্সি কাজ করার জন্য ৪৬৬ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৯ টাকা ব্যয় হবে। জয়েন্টভেঞ্চারের অনেকগুলো কোম্পানি। পাঁচটি কোম্পানি এতে সংযুক্ত হয়েছে। জাপানের মূল কোম্পানি ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল কোম্পানি তার সঙ্গে নকশার উন্নয়নে কাজ করবে আমাদের স্থানীয় কোম্পানি ডিসিএলএসএ। সাব-কন্টাক্টে এসেছে মিশসি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং পিডিও কোম্পানি লিমিটেড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত