ঘোষণাতেই আটকা ‘চলচ্চিত্র শিল্প’

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২০, ০৭:৩০ এএম

দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্রকে ‘শিল্প খাত’ হিসেবে ঘোষণা দেন। ২৪ এপ্রিল শিল্প মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর আট বছর কেটে গেছে। কিন্তু শিল্প খাতের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পায়নি চলচ্চিত্র। এতদিন কোনো রকমে ব্যবসা চালিয়ে নিয়েছেন প্রযোজক-পরিবেশকরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সংকটে পড়েছেন তারা। অনেকে সিনেমা হল বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সম্প্রতি চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে এটিকে এসএমই খাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গ্রেড উন্নীতকরণ, ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধাসহ সরকারের কাছে ১৯ দফা দাবি তুলে ধরেন প্রযোজক-পরিবেশকরা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে দেখা করে ১৯ দফা দাবি তুলে ধরি। তিনি এগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে চলচ্চিত্র শিল্পের মর্যাদা পেলেও এখন পর্যন্ত “এসআরও” জারি হয়নি। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষরা কোনো সুবিধা নিতে পারেন না।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, শুল্ক আইনে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নানা বিষয়ে ছাড় দেওয়ার কাজ এসআরওর মাধ্যমে করে থাকে। মর্যাদা পেলেও চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এখনো শিল্প হিসেবে নিবন্ধিত হয়নি। ফলে বাণিজ্যিকহারে বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে এফডিসি, শ্যুটিং সেট ও সিনেমা হল মালিকরা হিমশিম খাচ্ছেন। মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘মাসে যে পরিমাণ টিকিট বিক্রি হয়, বিদ্যুৎ বিল আসে তার অনেক বেশি। এজন্য প্রত্যেক মাসে লোকসান গুনতে হয়। করোনায় আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। চার মাস হলে কোনো সিনেমা নেই। এভাবে চলতে থাকলে হল বন্ধ করে দিতে হবে।’

সিনেমা প্রদর্শনের জন্য প্রজেক্টর, শব্দযন্ত্র, ডিজিটাল পর্দা ছাড়াও ক্যামেরা, লাইটসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে হয়। প্রতিটি পণ্যের ক্যাটাগরির ওপর আলাদা হারে শুল্ক নির্ধারণ রয়েছে। মর্যাদা পাওয়ায় চলচ্চিত্র শিল্প খাত হিসেবে এসব পণ্য আমদানিতে শুল্কছাড় পাওয়ার কথা। কিন্তু শুল্ক বিভাগের তফসিলে তালিকা হালনাগাদ না হওয়ায় চলচ্চিত্রশিল্প এ ছাড় পাচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র প্রযোজকরা তৈরি পোশাক ও চামড়াশিল্পের মতো বিদেশে সিনেমা মুক্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা, চলচ্চিত্র রপ্তানি আয়কে রেমিট্যান্স বিবেচনা করে একই সুবিধা, বিদ্যুতের বিল অন্যান্য শিল্প খাতের দরে, চলচ্চিত্র আমদানির ওপর স্বল্প কর ধার্য, যৌথ প্রযোজনায় সিনেমার ক্ষেত্রে বিদেশি শিল্পী, কলাকুশলীদের ওয়ার্ক পারমিট, তাদের সম্মানীর ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাতিল ও আয়কর সহজ করার দাবি জানিয়েছেন।

খোরশেদ আলম খসরু আরও বলেন, ‘আমরা চলচ্চিত্রকে এসএমই খাতে ও গ্রেড উন্নত করা ছাড়াও প্রযোজক সিনেমায় লগ্নি করলে, সেটির ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন স্বত্বকে নিরাপত্তা ধরে প্রযোজককে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার দাবি করেছি। শিল্পমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত