বঙ্গবন্ধুর হাতে করা আইনের বদল চায় না আওয়ামী লীগ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২০, ০৫:৩৪ এএম

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) ১৯৭২ পরিবর্তন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। তাদের প্রস্তাবিত নতুন যে নামে এ আইন করতে চায় তা হলো গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০২০। আইনটি ইংরেজিতে আছে বাংলায় করতে চায় ইসি।

তবে আইনে কী থাকবে না থাকবে তার চেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে বেশি গুরুত্ব আইনটির নাম নিয়ে। কারণ এ আইনটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন। এ আইনের নামকরণের প্রতি বাড়তি একটি অনুভূতি রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের। তাই নাম পরিবর্তনে কোনোভাবেই রাজি নয়। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) ১৯৭২ পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন একটি নতুন আইনের প্রস্তাব করেছে। আমরা এর ওপর আমাদের মতামত দিয়েছি দলীয়ভাবে। আইনের নতুন নামকরণ নিয়েও নির্বাচন কমিশনে মতামত দেওয়া হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর অনুচ্ছেদ ৯০এ থেকে ৯০আই-এ রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আরপিও থেকে ওইটা বাদ দিয়ে নিবন্ধনের জন্য নতুন আইন ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন বিল ২০২০’-এর খসড়া প্রণয়ন করে। এর ওপর ইসি মতামতও চায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। এর ওপর অনেকগুলো রাজনৈতিক দল মতামত দেয়। গত বুধবার আওয়ামী লীগের দেওয়া মতামতে আইনটির ব্যাপারে দ্বিমত করে। আওয়ামী লীগসহ ১৬টি নিবন্ধিত দল, ১০টি অনিবন্ধিত দল এবং ১০ জন ব্যক্তি মতামত দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনটি করে গেছেন। যার কারণে আওয়ামী লীগ নতুন আইনের বিপক্ষে, পরিবর্তনের পক্ষে না।

রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণের সময়সীমা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবেও দ্বিমত করেছে ক্ষমতাসীনরা। এ ক্ষেত্রে দলটি নারী নেতৃত্ব পূরণের সময়সীমা আরও পাঁচ বছর বাড়াতে বলেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচনে ভবনের নিজ দপ্তরে ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন প্রণীত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন খসড়া আইনের বিষয়ে তাদের লিখিত অভিমত কমিশনে জমা দেয়।

আওয়ামী লীগের মতামত সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, তারা ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধান প্রস্তাবিত নতুন আইনে রাখার জন্য মতামত দিয়েছে।

বর্তমানে আরপিও থেকে দল নিবন্ধনের অধ্যায়টি তুলে দিয়ে ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০’ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করেছে ইসি। ওই খসড়া আইনে রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও কবে নাগাদ তা করতে হবে সে বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়।

এই নতুন আইনের খসড়ার ওপর সবার কাছে মতামত চেয়েছিল সংস্থাটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দলের মতামত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, মতামতগুলো মিশ্র। কেউ বলেছে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা সময় বেঁধে দেওয়ার জন্য। কেউ বলেছে নারী সদস্য পদ পূরণে সময় আর না বাড়াতে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়েও তারা মতামত দিয়েছে। আমরা একীভূত করছি। তারপর কমিশনের কাছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ৩১ জুলাই (আজ) মতামত দেওয়ার সময় শেষ। আর সময় বাড়ানো হবে না। এরপরই যৌক্তিক মতামতের ভিত্তিতে নতুন দল নিবন্ধন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত