সাইফুল ইসলাম। পেশায় তিনি একজন শেফ। ১৬ বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান যুক্তরাজ্যে। চাকরি নেন একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ভালোই কাটছিল তার দিন। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সাইফুলের ওপর নেমে আসে ‘নির্যাতনের খড়গ’। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যৌন নিপীড়নের। মামলা করে যুক্তরাজ্য পুলিশ। তদন্ত করে তাকে ওই দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ ও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাইফুল। আপিলে নির্দোষও প্রমাণিত হন। কিন্তু এরপরও থেমে থাকেনি পুলিশি তৎপরতা। এবার তার বিরুদ্ধে আন্ডারওয়ার্ল্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়। এবারও আপিল করে বিজয়ী হন তিনি। এরপর থেকে সাইফুলের বিরুদ্ধে একের পর এক নানা অভিযোগ তোলে ওই দেশের প্রশাসন। এভাবে প্রায় ১৬ বছর ধরে একাই আইনি লড়াই করে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এখনো মামলার সুরাহা হয়নি। সাইফুলের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী। আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পেতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা কামনা করেছেন।
সাইফুল ইসলাম জানান, ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে গিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি নেন। তার বয়স এখন ৪৪ বছর। মামলায় হেরে যুক্তরাজ্যর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশও করেছে। তার পক্ষে দেশটির কয়েকজন আইনজীবী সহযোগিতা দিচ্ছেন। ওই দেশে এটি নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন তার আইনজীবীরা। পুলিশ যে ভুল করেছে যুক্তরাজ্যের প্রসিকিউশন তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তবে তারপরও তারা মামলাটি সচল রেখেছে।
সাইফুল সম্প্রতি টেলিফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি দপ্তরে থাকা আমার কাগজপত্র কোনোভাবে মিশে গিয়েছিল অন্য তিনজন লোকের সঙ্গে। তার ফলে কোনো দোষ না করেও আমাকে অপরাধী করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যে ভুলের জন্য আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এরপরও এ দেশে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার দিচ্ছে না। প্রায় ১৬ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’
সাইফুল জানান, দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ওয়েলস, বিবিসি লন্ডন ওয়ান, বিবিসি বাংলা ও স্কাই নিউজ তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। ওইসব প্রতিবেদনে অভিবাসীদের অধিকারসংক্রান্ত নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী ফিজা কুরেশি বলেন, ‘সাইফুল যদি ১৬ বছর ধরে মামলা লড়ে না যেতেন তাহলে তার জানাই হতো না যে হোম অফিস তার কাগজপত্র গুলিয়ে ফেলেছে এবং তাকে ভুলভাবে একজন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে তার নিয়োগদাতার শোষণ সম্পর্কে খবর দিয়েছে, তার প্রশংসা করতেও ব্যর্থ হয়েছে। তা না করে উল্টো তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বহিষ্কার করতে চাচ্ছে। যদিও সে সাহসী ও নির্দোষ।’
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য ১৬ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসা ক্ষুব্ধ ও হতাশ সাইফুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হোম অফিস আমাকে মানুষ বলে মনে করেনি। তারা এমন আচরণ করেছে যেন আমি একজন দাগী অপরাধী। আমি এজন্য অনেক বছর হারিয়েছি, আমার স্বাস্থ্য ও অর্থ নষ্ট করেছি। এজন্য মানসিক বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছি।’
