করোনার নতুন চিকিৎসা, আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ০৩:১৫ এএম

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের জন্য মরিয়া গোটা বিশ্ব। প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পাতায় করোনার টিকা নিয়ে থাকছে কোনো না কোনো প্রতিবেদন। বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান করোনার টিকা আবিষ্কারে অনেকটা এগিয়েছে, এমন দাবিও করা হচ্ছে। এসব দাবির মধ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর অ্যান্টিবডি-থেরাপিভিত্তিক এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা। করোনা প্রতিরোধে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপির সাফল্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ও হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্কফোর্সের সদস্য ড. অ্যান্থনি ফাউচি ‘অনেকটাই নিশ্চিত’ বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অল্প দিনের মধ্যেই করোনাভাইরাসের নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির ঘোষণা দিতে পারে। এবিসি নিউজে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর থেরাপিভিত্তিক এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির ঘোষণা দিতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। ক্যানসারের মতো রোগের চিকিৎসায় যেমন করে বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক থেরাপি দেওয়া হয়, তেমন করেই করোনা চিকিৎসার জন্য একটি থেরাপিভিত্তিক ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে। এ পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট ভাইরাসকে (কভিড-১৯) প্রতিরোধে সক্ষম কৃত্রিম অ্যান্টিবডি তৈরি করে তা থেরাপির মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা এ মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি উন্নয়নে কাজ করছেন। ড. ফাউচি বলেছেন, এ অ্যান্টিবডি যে কভিড-১৯ প্রতিরোধে সক্ষম হবে সে ব্যাপারে তিনি ‘অনেকটাই নিশ্চিত’।

একটি ভাইরাস যখন মানুষের শরীরের প্রাথমিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়, তখন প্রাকৃতিকভাবেই শরীরে অভ্যন্তরেরই সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা থেকে প্রতিরোধ তৈরি হয়। এটি হয় শরীরে থাকা প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন কিংবা অ্যান্টিবডির কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা করোনা মোকাবিলায় যে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন, তা আসলে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনেরই অনুলিপি হবে।

করোনার থাবায় বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এ ভাইরাসে। এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা যায়নি। বিশ্বে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে আছে ১৭৩টি উদ্যোগ। এর মধ্যে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় পৌঁছতে পেরেছে তিনটি, তবে কোনো ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত সাফল্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাশিয়া তাদের একটি ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত সাফল্য দাবি করলেও তা নিয়ে সংশয় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আশাবাদের কথা শোনা গেল।

অবশ্য কভিড-১৯ চিকিৎসায় অ্যান্টিবডির ভূমিকা এখনো প্রশ্নাতীত নয়। বিজ্ঞানীরা এখনো এ নিয়ে কাজ করছেন। তবে ওষুধ প্রস্তুতকারীরা আত্মবিশ্বাসী যে, যথাযথ অ্যান্টিবডি ব্যবহার করতে পারলে এ পদ্ধতিতে নিশ্চিত সাফল্য আসবে।

 

 

১৪

করোনার নতুন চিকিৎসা, আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

রূপান্তর ডেস্ক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের জন্য মরিয়া গোটা বিশ্ব। প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পাতায় করোনার টিকা নিয়ে থাকছে কোনো না কোনো প্রতিবেদন। বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান করোনার টিকা আবিষ্কারে অনেকটা এগিয়েছে, এমন দাবিও করা হচ্ছে। এসব দাবির মধ্যেই প্রযুক্তিনির্ভর অ্যান্টিবডি-থেরাপিভিত্তিক এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা। করোনা প্রতিরোধে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপির সাফল্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ও হোয়াইট হাউজের করোনা টাস্কফোর্সের সদস্য ড. অ্যান্থনি ফাউচি ‘অনেকটাই নিশ্চিত’ বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অল্প দিনের মধ্যেই করোনাভাইরাসের নতুন চিকিৎসা

পৃষ্ঠা ২ কলাম ১ >

 

 

 

করোনার নতুন চিকিৎসা, আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

 

পদ্ধতির ঘোষণা দিতে পারে। এবিসি নিউজে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর থেরাপিভিত্তিক এক নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির ঘোষণা দিতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। ক্যানসারের মতো রোগের চিকিৎসায় যেমন করে বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক থেরাপি দেওয়া হয়, তেমন করেই করোনা চিকিৎসার জন্য একটি থেরাপিভিত্তিক ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে। এ পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট ভাইরাসকে (কভিড-১৯) প্রতিরোধে সক্ষম কৃত্রিম অ্যান্টিবডি তৈরি করে তা থেরাপির মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা এ মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি উন্নয়নে কাজ করছেন। ড. ফাউচি বলেছেন, এ অ্যান্টিবডি যে কভিড-১৯ প্রতিরোধে সক্ষম হবে সে ব্যাপারে তিনি ‘অনেকটাই নিশ্চিত’।

একটি ভাইরাস যখন মানুষের শরীরের প্রাথমিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়, তখন প্রাকৃতিকভাবেই শরীরে অভ্যন্তরেরই সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা থেকে প্রতিরোধ তৈরি হয়। এটি হয় শরীরে থাকা প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন কিংবা অ্যান্টিবডির কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা করোনা মোকাবিলায় যে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির উন্নয়ন ঘটাচ্ছেন, তা আসলে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনেরই অনুলিপি হবে।

করোনার থাবায় বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এ ভাইরাসে। এখনো কার্যকর কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা যায়নি। বিশ্বে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে আছে ১৭৩টি উদ্যোগ। এর মধ্যে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষায় পৌঁছতে পেরেছে তিনটি, তবে কোনো ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত সাফল্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাশিয়া তাদের একটি ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত সাফল্য দাবি করলেও তা নিয়ে সংশয় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আশাবাদের কথা শোনা গেল।

অবশ্য কভিড-১৯ চিকিৎসায় অ্যান্টিবডির ভূমিকা এখনো প্রশ্নাতীত নয়। বিজ্ঞানীরা এখনো এ নিয়ে কাজ করছেন। তবে ওষুধ প্রস্তুতকারীরা আত্মবিশ্বাসী যে, যথাযথ অ্যান্টিবডি ব্যবহার করতে পারলে এ পদ্ধতিতে নিশ্চিত সাফল্য আসবে।

৩৩৩৩৩৩৩৩৩৩৩

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত