জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে যখন জাতীয় ক্রিকেটাররা মিরপুর ও অন্য ভেন্যুতে একক অনুশীলন শুরু করলেন তখন পরিস্থিতিটা ছিল ভিন্ন। করোনাভাইরাসের কারণে ক্রিকেট বোর্ড তখন ক্রিকেটারদের মাঠে অনুশীলনে উৎসাহিত করছিল না। কিন্তু ভিন্ন পরিস্থিতিতে এখন সেই বিসিবি চাইছে ক্রিকেটাররা যেন ঈদের ছুটি কাটিয়ে মাঠে ফেরেন। ৮ আগস্ট থেকে দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে শুরু হচ্ছে ক্রিকেটারদের মাঠে অনুশীলনের দ্বিতীয় ধাপ।
ক্রিকেট অপারেশন্সের প্রধান আকরাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘৮ তারিখ থেকেই খেলোয়াড়দের অনুশীলন শুরু হবে।’ সেই সঙ্গে এও জানিয়েছেন, জাতীয় দলের বা পুলের বাইরে থাকা ক্রিকেটাররাও প্র্যাকটিস করতে পারবেন মাঠে। তবে তারা চিঠি দিয়ে বিসিবির কাছে আগ্রহ প্রকাশ করলেই কেবল ব্যবস্থা করা হবে।
মুশফিকুর রহিমরা প্রথম ধাপে প্র্যাকটিসে ফেরার পর আইসিসি ২০২০ অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্থগিত করে। তার ফলে বাংলাদেশের আর এই বছরে খেলা থাকে না। মার্চের পর থেকে ঘরবন্দি সবাই। বাতিল হয়েছে অনেকগুলো সিরিজ। এরপর বাকি সময়েও আন্তর্জাতিক খেলা না থাকলে কীভাবে চলে? বিসিবি উদ্যোগী হয় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে কথাবার্তা চালানোর ব্যাপারে। অক্টোবরে তাই শ্রীলঙ্কা সফরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে বাতিল হওয়া বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরে ছিল শুধু তিনটি টেস্টের সিরিজ। এবার ওই টেস্ট সিরিজের সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ যোগ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
যদিও আগে থেকে বলা হচ্ছে এবং ক্রিকেটারদের দাবিও, মার্চে প্রথম রাউন্ডের পর স্থগিত হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ দিয়ে শুরু হোক বাংলাদেশের ক্রিকেট। সেই পরিকল্পনা আছে। তবে এসবকে ছাপিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা সফরের পরিকল্পনা। কিন্তু কীভাবে?
প্রথম দফায় ১৯ থেকে ২৮ আগস্ট ঢাকায় যারা অনুশীলন করেছেন তারা হলেন মুশফিক, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, শফিউল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয় ও মেহেদী হাসান রানা। খুলনায় মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নুরুল হাসান সোহান ফিটনেস ট্রেনিং করেছেন। চট্টগ্রামে নাঈম হাসান, রাজশাহীতে নাজমুল হোসেন শান্ত আর সিলেটে খালেদ আহমেদ ও নাসুম আহমেদ মাঠে ছিলেন। এই তালিকা থেকে পরিষ্কার, জাতীয় দলের নিয়মিত তারকাদের সিংহভাগ এখন পর্যন্ত মাঠমুখী নন।
ঈদের আগে আশা করা গিয়েছিল ঈদের পর গ্রুপ হিসেবে হয়তো অনুশীলন করা যাবে। কিন্তু বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানালেন, ‘গত মাসে যেভাবে হয়েছিল সেভাবেই ব্যক্তিগত অনুশীলন হবে।’ টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক আগেই জানিয়ে রেখেছেন, ঈদের পর মাঠের অনুশীলনে ফিরবেন। কক্সবাজারের ছেলে ঢাকাতেই আছেন কভিড-১৯ দেশে হামলা করার পর থেকে। তিনি ফিরছেন মাঠে। মাঠে ফেরানোর চেষ্টা থাকছে ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালকেও।
তামিম ২৫ জুলাই লন্ডনে গিয়েছিলেন পেটের অস্বাভাবিক ব্যথার চিকিৎসা করাতে। ঈদের দিন সকালে ফিরে আসেন দেশে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। কিন্তু বিসিবি চাইছে তার আগে পরীক্ষা করিয়ে যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে তামিমকেও মাঠে নিয়ে আসতে।
এদিকে আজ বাংলাদেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা অনলাইন মিটিংয়ে পাবেন গ্যারি কার্স্টেনকে। ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ বিসিবির কোচিং সম্পর্কিত পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো এক সময় ছিলেন কার্স্টেনের সহকারী। ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান আকরাম খান জানালেন, ‘ক্রিকেটাররা গ্যারির কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নিতে চাইলে নিতে পারবে। সেই সুযোগটা থাকছে।’ এটাই প্রথম নয়, জাতীয় ক্রিকেটাররা গেল মাস দুয়েকে আরও কয়েকটি এমন অনলাইন সভা করেছেন।
সব মিলে আসলে বাংলাদেশের ঈদ পরবর্তী ক্রিকেট কার্যক্রম এখান থেকেই হচ্ছে শুরু।
