চলতি সপ্তাহেই বাজারে উঠবে নতুন পাট

১৩ লাখ বেল পাটের কী হবে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২০, ০৭:৩২ এএম

বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি পাটকল। প্রতি বছর কৃষকের কাছ থেকে এসব পাটকল ১৩ লাখ বেল পাট কিনত। এবার সেই সুযোগ নেই। চলতি বছর ৮২ লাখ বেল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমের প্রায় ৩০ শতাংশ পাট ক্ষেত থেকে তুলেছেন কৃষক। এ সপ্তাহেই বাজারে উঠবে নতুন পাট। এত পাট নিয়ে তারা কোথায় যাবেন? ৪০ লাখ পাটচাষির মনে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। কারণ বেসরকারি পাটকলগুলোর বড় গুদাম নেই। এজন্য সারা বছরই প্রয়োজন অনুসারে পাট কিনে থাকে তারা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিতে তারা বদ্ধপরিকর। এজন্য দ্রুত সময়ে বন্ধ পাটকলগুলো আবার চালু করা হবে।

এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পুনর্বিন্যাস করে বিজেএমসির বন্ধঘোষিত মিলগুলো জরুরি ভিত্তিতে চালু করতে কাজ করছে সরকার। অবসায়নের পরে দেশের পাটকলগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ জিটুজি বা লিজ মডেলে পরিচালনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে।

একই সঙ্গে মিলগুলোকে উপযুক্ত ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও পুনঃচালু এবং বিজেএমসির জনবল কাঠামো পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের দুটি কমিটি ইতিমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি বলেন, সরকার পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে। এজন্য ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, পাট ক্রয়-বিক্রয় সহজ করতে এসএমএসভিত্তিক কেনাবেচার ব্যবস্থা, কাঁচাপাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়াতে কাজ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি মৌসুমে ৮২ লাখ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ৭ দশমিক ২৬ হেক্টর জমিতে এবার পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর দেশে ৬৮ লাখ বেল পাট উৎপাদন হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ পাট কাটা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাজারে পাট উঠতে শুরু করবে।

কৃষি তথ্যসেবা সূত্রে জানা গেছে, দেশে পাটচাষি ৪০ লাখ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চার কোটি মানুষের জীবিকা পাটকে কেন্দ্র করে। প্রতি বছর মৌসুমে গড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পান কৃষক।

বিজেএমসির তথ্য অনুসারে, সরকারি পাটকলগুলো প্রতি বছর গড়ে ১৩ লাখ বেল পাট কিনে থাকে। গত বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার টাকা মণপ্রতি দর পেয়েছেন কৃষক। কিন্তু এবার বেসরকারি পাটকলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।

বিজেএমসির চেয়ারম্যান আবদুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা চলতি সপ্তাহেই মিল চালুর বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কীভাবে চালু করা যায়, তার প্রস্তাব চাওয়া হবে। তিনি বলেন, বহুমুখী পাটপণ্যের বর্তমান বাজার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বেশি পাট উৎপাদন হয় ফরিদপুর, যশোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও জামালপুর জেলায়। এসব জেলার পাটচাষিদের মধ্যে পাট বিক্রি এবং ন্যায্য দর পাওয়া নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পাট উৎপাদন হয় ফরিদপুর ও টাঙ্গাইলে। এসব জেলার একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, সরকার এবার পাট কিনবে না শুনেই তাদের রাতের ঘুম হারাম। পাট চাষে চলে তাদের সংসার। করোনার মধ্যে অন্য আয়ও নেই। ফলে এখন করণীয় নিয়ে চিন্তিত তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদিত পাটের ৫০-৫৫ লাখ বেল ব্যবহার হয় বেসরকারি খাতের পাটকলগুলোতে। স্থানীয় বাজার থেকে ফড়িয়া এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সারা বছরের পাট সংগ্রহ করে বেসরকারি খাতের মিলগুলো। তবে সরকারি পাটকলের মতো বড় গুদাম না থাকায় মৌসুমে প্রয়োজনীয় পাট কেনা সম্ভব হয় না তাদের পক্ষে। তবে সরকার চাইলে রপ্তানি করতে পারে। গত কয়েক বছরে পাট রপ্তানি বাড়েনি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানায়, ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখ বেল কাঁচাপাট রপ্তানি হতো। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮-৯ লাখ বেলে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর রপ্তানি হয় ৮ লাখ বেল। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও কমে তা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার বেলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত