করোনাভাইরাস পরীক্ষার নামে ভুয়া সনদ দেওয়াসহ জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকালে মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করে। এতে সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফকে প্রতারণার হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ৬ আসামির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতিতে সহায়তার তথ্য-প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
জেকেজির মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাবরিনা ও আরিফসহ এজাহারভুক্ত ৮ আসামির বিরুদ্ধে প্রতারণার যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল তার সবই প্রমাণিত। মামলার তদন্তকালে তিনজন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া ১৬ জনের কাছ থেকে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৮ আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাসের পরীক্ষার নামে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তারা পরস্পর যোগসাজশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত সব ধরনের প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক লিয়াকত আলী জানান, মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন আবু সাঈদ চৌধুরী, হুমায়ূন কবির হিমু, তানজিলা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম রোমিও ও জেবুন্নেসা।
গত ২৩ জুন সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আরিফ ও তার সহযোগী সাঈদ চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরপর ১৫ জুলাই আরিফুলের ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। গত ১৬ জুলাই রিমান্ডে মুখোমুখি করা হয় আরিফ ও সাবরিনাকে। এর আগে ১২ জুলাই দুপুরে সাবরিনাকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে করোনার নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে তেজগাঁও থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। ১৩ জুলাই তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ১৭ জুলাই আরও দুদিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। রিমান্ড শেষে ২০ জুলাই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। জেকেজি হেলথ কেয়ারের কর্মচারী হুমায়ুন কবির ও তার স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে হুমায়ুন কবীর জেকেজি হেলথ কেয়ারে চাকরি করার সময় কীভাবে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা এবং ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করেছেন, সে ব্যাপারে সবিস্তারে তুলে ধরেন। হুমায়ুন কবির জবানবন্দিতে বলেন, করোনার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করে ড্রেনে ফেলে দিতেন।
