২৯ বছর পর অযোধ্যায় মোদি

রুপোর ইটে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২০, ০৭:০৬ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল বুধবার অযোধ্যার বিতর্কিত ভূমিতে রামমন্দির নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। বড় ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তিন দশক আগে দেওয়া তাদের একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে বলে ভারতীয় একাধিক মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রামমন্দির নির্মাণ আন্দোলনের শুরুর দিকে নেতৃত্ব দেওয়া বিজেপি নেতা এলকে আদভানি ও মুরলি মনোহর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হননি। করোনায় আক্রান্ত দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও টিভিতে অনুষ্ঠান দেখেছেন হাসপাতালের বিছানা থেকে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে ২৯ বছর পর উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় পা রেখেছেন মোদি এবং তিনি মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে পূজাতে পৌরহিত্য করেন। এরপর রুপোর তৈরি প্রথম ইটটি গাঁথেন তিনি। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামমন্দির নির্মাণের প্রক্রিয়া হলো রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি প্রয়াস। নরকে নারায়ণের সঙ্গে, জনগণকে আস্থার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়া।

বুধবার লখনৌ হয়ে মোদি অযোধ্যায় নামেন। এরপর যান হনুমানগরি মন্দিরে। সেখান থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে। তার সঙ্গে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ছাড়াও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মোহন ভাগবত ও অন্য আমন্ত্রিত অতিথিরা ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, হাজার বছর আগে বাল্মীকির রামায়ণ প্রাচীন ভারতকে যেভাবে পথ দেখিয়েছিল, যে রাম মধ্যযুগে তুলসীদাস, কবিরের লেখনীতে উঠে এসেছিলেন, সেই রামকেই স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে মহাত্মা গান্ধীর ভজনে অহিংসা আর সত্যাগ্রহের শক্তি হিসেবে দেখা গিয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানবজীবনে আমরা যখন রামকে মেনে চলেছি, তার আদর্শের পথে আমরা থেকেছি তখনই উন্নয়ন হয়েছে। সেই পথ থেকে বিভ্রান্ত হলেই বিনাশ হয়েছে। আমাদের সবার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে, সবার সঙ্গে থেকে সবার উন্নতি করতে হবে। সবার আস্থা অর্জন করতে হবে।

‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি তুলে ভাষণ শুরু করা মোদি বলেন, আজ পুরো ভারত রামময়। পুরো দেশ রোমাঞ্চিত। প্রত্যেকের মনে যেনও দীপাবলী। বহু বছরের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসই হয়তো হচ্ছে না যে জীবদ্দশায় তাদের এই স্বপ্নপূরণ হচ্ছে। অনেক বছর ধরে কাঠ আর তাঁবুর নিচে থাকা রামলীলার জন্য এবার মহামন্দির নির্মাণ। ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই মন্দির ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে।

প্রসঙ্গত, অযোধ্যার যে ভূমিতে রামমন্দির নির্মিত হচ্ছে তা নিয়ে কয়েক দশক ধরে হিন্দু ও মুসলমানদের বিরোধ ছিল। ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা জমিটিতে থাকা ষোড়শ শতকের বাবরি মসজিদ ভেঙেও ফেলে। জমির মালিকানা নিয়ে কয়েক দশকের বিরোধ শেষে গত বছর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জমিটিতে রামমন্দির নির্মাণে সবুজ সংকেত দেয়। রায়ে মসজিদ নির্মাণে মুসলমানদের অযোধ্যারই অন্য কোথাও জমি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত