ইতালিকে ছাড়িয়ে আক্রান্তে ১৫তম বাংলাদেশ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ০৭:৪২ এএম

ঈদের ছুটি শেষে দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন রোগী শনাক্তও বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৫২তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় গত সাত দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৭০৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় ২ হাজার ৯৭৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যা গত আট দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৯ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে প্রায় তিন হাজার নতুন রোগী শনাক্তের মধ্য দিয়ে গতকাল আক্রান্তের দিক থেকে ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। প্রায় আড়াই লাখ রোগী নিয়ে বিশ্বে সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের দেশগুলোর মধ্যে এখন ১৫তম অবস্থানে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২ লাখ ৪৮ হাজারের বেশি রোগী নিয়ে ইতালি রয়েছে ১৬তম অবস্থানে। তবে মৃত্যুর দিক থেকে বাংলাদেশ ইতালি থেকে অনেক দূরে। ৩৫ হাজারের বেশি মৃত্যু নিয়ে ইতালি তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে আর বাংলাদেশ রয়েছে ২৯তম স্থানে।

গতকাল অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ২৩ শতাংশের বেশি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন পেশ করেন জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক  ডা. বায়েজিদ খুরশীদ রিয়াজ। তিনি জানান, ৮৩টি পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ১৮৯টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ হাজার ৭০৮টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৯৭৭ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩৯ জন এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭৪ জন।

বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১২ লাখ ২৫ হাজার ১২৪টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৩০৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮২৪ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৬১ শতাংশ।

ডা. বায়েজিদ খুরশীদ জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩২ ও নারী ৭ জন। সর্বোচ্চ ১৭ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৭, খুলনায় ৪, রাজশাহী ও রংপুরে ৩ জন করে, বরিশাল ও সিলেটে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩০ এবং বাড়িতে ৯ জন। মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ জনের বয়স ৬১-৭০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৫১-৬০ বছরের ৯, ৭১-৮০ বছরের ৭ এবং অন্যান্য বয়সের আছেন ১০ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৬০৬ এবং নারী ৭০০ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ ও নারী ২১ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৮৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৭৯১, খুলনায় ২৪২, রাজশাহীতে ২০২, সিলেটে ১৫৬, বরিশালে ১৩০, রংপুরে ১৩০ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৭১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৯৫৫ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬৭৪ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৩৯৯ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫২ হাজার ৮৩০ জন। হটলাইনগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ৭১ হাজার ৯৫১টি। এ সময়ের মধ্যে টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৩২৯ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৫৬৪ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৩২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৯২৫টি ও ৩০১টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১২২টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫৪৯টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৭টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৪টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৭৯৫টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৮টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত