নির্বাচন কমিশন (ইসি) ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০’ নামে যে নতুন একটি আইন প্রণয়নের কাজে হাত দিয়েছে তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, ইসি যে আইন করতে যাচ্ছে তার কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো রাজনৈতিক দল এমন কোনো প্রস্তাবও করেনি। তাই সন্দেহ হচ্ছে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে ইসি এসব করতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিএনপি ইসির কর্মকা- গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইসি যা করতে চাইছে তার কোনো প্রয়োজন আছে বলে রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে না। দলগুলোর পক্ষ থেকে বিষয়টি জানিয়ে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি সরকারি দল সময় চেয়েছে। ইসি অসৎ উদ্দেশ্যে এসব করছে বলে সন্দেহ রয়ে যাচ্ছে। তারা সরকারকে সুবিধা করে দেওয়া এবং বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের কাছে আইনটির খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য আহ্বান জানায় ইসি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মতামত দেওয়ার সময় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল আইনটি বর্তমানে না করার জন্য আহ্বান জানায়। এ অবস্থায় গত ৩১ জুলাই মতামত দেওয়ার সুযোগ শেষ হয়েছে। এখন ইসি নিজেদেরে মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘৩১ জুলাই পর্যন্ত মতামত দেওয়ার সময় ছিল। এখন আমরা সবার মতামত একীভূত করে আলোচনায় বসব। বৈঠকে বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে খসড়া সংযোজন, বিয়োজন করে অনুমোদন করা হবে।’
ইসি দল নিবন্ধনের যে খসড়া তৈরি করেছে তাতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনের পূর্ববর্তী দুটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসন পাওয়া এবং ওই সংসদ নির্বাচনে যেকোনো একটিতে আবেদনকারী দলের অংশগ্রহণ করা আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫ শতাংশ পাওয়ার বিধান খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইসির টার্গেট বিএনপি। পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক রাজনৈতিক দলগুলো। এসব দল যাতে নিবন্ধন না পায়।’
তিনি বলেন, ‘ইসি সর্বশেষ দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বলছে। কিন্তু গত দুটি নির্বাচনে কী হয়েছে তা দেশের মানুষ দেখেছে। ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি গত জুন মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসি সচিবালয়ে কমিশনের ৬৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিইসি নতুন আইনের খসড়া উপস্থাপন করেন। তিনি নিজেই তা প্রস্তুত করেছেন। অতিগোপনীয়তার সঙ্গে ওই খসড়া শুধু নির্বাচন কমিশনারদের দিয়েছেন। প্রচলন অনুযায়ী বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের আলোচনার জন্য কার্যপত্র দেওয়া হলেও সোমবারের বৈঠকে তা দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘সিইসি দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রমাণ করেছেন তিনি সরকারের লোক। সরকার যেভাবে চায় সেভাবে কাজ করেন তিনি। তাছাড়া সিইসি জনতার মঞ্চের একজন ছিলেন। তার মাথা থেকে সরকারকে সহযোগিতা ছাড়া অন্য কিছু আসবে না। তাই তার এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। তার উদ্দেশ্যই হলো বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলা।’
বিএনপি নেতারা বলেছেন, দল নিবন্ধনের খসড়ায় রাজনৈতিক দলে সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা বহাল চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। বর্তমান বিধান অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু নতুন আইনের খসড়ায় তা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, যেকোনো দল ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যপদ কত দিনের মধ্যে পূরণ করবে, তা স্বাধীনভাবে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করবে। ইসিকে শুধু মাঝে মধ্যে অগ্রগতি জানাবে।
ইসিতে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪১টি। প্রতি সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন নেওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে দলগুলোর কাছে আবেদন আহ্বান করে ইসি।
