হিরোশিমা দিবসে উগ্র জাতীয়তাবাদ বর্জনের ডাক

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ০৮:২০ এএম

হিরোশিমা দিবসের ৭৫তম বার্ষিকীতে জাপানের পক্ষ থেকে উগ্র জাতীয়তাবাদ বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র কিংবা কভিড-১৯-এর মতো মানব-সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মানুষের সম্মিলিত লড়াইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই ও প্রধানমন্ত্রী শিনজে আবে।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়। মাটির সঙ্গে মিশে যায় বেশির ভাগ স্থাপনা। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় একটি নগরী। পাশর্^প্রতিক্রিয়ায় বছর শেষে আরও ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করেছে জাপান। সেই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়াদের পাশাপাশি নিহতদের আত্মীয়-স্বজন ও বিদেশি প্রতিনিধিরা এসব আয়োজনে অংশ নেন। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি বিশ^ শান্তির ডাক দিয়েছেন তারা। তবে করোনার কারণে এবার হিরোশিমা দিবসে হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কে জনসমাগমে অনুমতি দেওয়া হয়নি। দিবসের সব আয়োজন অনলাইনে সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত  সবাই ছিলেন মাস্ক পরিহিত।

দিবসটি উপলক্ষে হিরোশিমার মেয়র কাজুমি মাতসুই উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তার মতে, এই উগ্র জাতীয়তাবাদই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য বিশ^ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাতসুই বলেছেন, এমন দুঃসহ অতীতের পুনরাবৃত্তি আমরা হতে দিতে পারি না। সভ্য সমাজকে অবশ্যই আত্মকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ পরিত্যাগ করতে হবে এবং সব হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজে আবে তার বিবৃতিতে বলেছেন, প্রতিটি দেশেরই উচিত পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে নিজেদের মধ্যকার অবিশ্বাস দূর করা।

হিরোশিমার ঘটনার তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকি শহরে ফ্যাটম্যান নামে আরেকটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তাতে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হয়। তবে জাপানের আসাহি শিমবুনের এক হিসাবে বলা হয়েছে, বোমার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগের কারণে দুই শহরে চার লাখের মতো মানুষ মারা যায়। তাদের অধিকাংশই ছিল বেসামরিক নাগরিক।

আণবিক বোমা হামলার এত বছর পরও শহর দুটোতে জন্ম নিচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশু। ক্যানসারসহ দুরারোগ্য রোগে ভুগছে বহু মানুষ। দিবসটি পালনে জাপান সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত