ঢাকা ছাড়া সারা দেশে বন্যার উন্নতি

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২০, ০৮:২২ এএম

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। এখন ঢাকা ও আশপাশের এলাকা ছাড়া সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, যা আগামী ৪-৫ দিন অব্যাহত থাকবে। তবে রাজধানীর আশপাশের নিম্নাঞ্চল ও নারায়ণগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের অন্তত ১৪টি জেলা বন্যাকবলিত। দেশের ১৪টি নদীর ২০টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সতর্কীকরণ কেন্দ্র ১০ দিনের পূর্বাভাসে বলেছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত কমতে পারে এবং তারপর বাড়া শুরু করবে। ফলে ওই সময় পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। গঙ্গা-পদ্মার পানি বাড়তে পারে। তবে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্টে, মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে এবং শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত পানি কমবে। ফলে এই সময়ে এসব জেলায় বন্যার কিছুটা উন্নতি হবে।

রাজধানী ঢাকার আশপাশের নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ৫ দিন নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার পানি বাড়বে। ডেমরা পয়েন্টে বালু নদী, মিরপুর পয়েন্টে তুরাগ নদ এবং রেকাবি বাজার পয়েন্টে ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। ফলে ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতিও আগামী ৫ দিন স্থিতিশীল থাকবে। পর্যবেক্ষণে থাকা দেশের নদনদীর ১০১টি স্টেশনের মধ্যে গতকাল ৩৪টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে, ৬৩টিতে কমেছে। আর ১৪টি নদীর ২০টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহে দেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তাই বৃষ্টির কারণে বন্যার অবনতির আশঙ্কা কম। গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী ১১-১২ আগস্ট বৃষ্টির মাত্রা একটু বাড়তে পারে। এ সময় দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আর আগামী ৫-৬ দিন থেমে থেমে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’

লক্ষ্মীপুরে জলোচ্ছ্বাসে ৪০ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত : প্রচণ্ড জোয়ার ও সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে গতকাল লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিন উপজেলার ৫০টি গ্রামের ফসল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজারো মানুষ এখন পানিবন্দি।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার দুপুর ১২টা থেকে মেঘনা নদীর পানি বাড়তে থাকে। বিকেল ৪টা নাগাদ জলোচ্ছ্বাস হয়ে পানি তীরবর্তী লোকালয়ে প্রবেশ করে। কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছায়েফ উল্লাহ জানান, ভাঙনে মেঘনা নদীতে আগেই বিলীন হয়ে গেছে বেড়িবাঁধ। এখন নদীতে জোয়ার এলেই পানি বিভিন্ন গ্রামে ঢুকছে।

বুড়িগঙ্গা-ধলেশ্বরীর পানি বৃদ্ধি : বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে দুটি নির্মাণাধীন ভবন ধসে গেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিক জানান, বন্যার্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহায়তা করা হচ্ছে।

সুরেশ্বর দরবার রক্ষাবাঁধের ৬০ মিটার বিলীন : প্রবল স্রোতে গতকাল শরীয়তপুরে সুরেশ্বর দরবার শরিফ রক্ষাবাঁধের প্রায় ৬০ মিটার পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে ওই স্থানে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব।

সুরেশ্বর দরবার শরিফের প্রধান মোতাওয়াল্লি সৈয়দ শাহ সুফি কামাল নুরী বলেন, ‘বেড়িবাঁধের জন্য গত কয়েক বছর আমরা শান্তিতে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বাঁধের কিছু অংশ পদ্মার ভাঙনে বিলীন হওয়ায় দরবার শরিফ নিয়ে চিন্তা বেড়েছে।’

এছাড়া গত দুদিন ধরে পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় জেলার ৪টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত