নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওরে পর্যটকবাহী নৌকাডুবির ঘটনায় আরও একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। গত বুধবার দুপুরের ওই দুর্ঘটনায় নিখোঁজের এক দিন পর মরদেহ উদ্ধার হওয়া রাকিব (২০) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরসিরতা ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী টেঙ্গা জামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া রাজাআলী কান্দা এলাকার পেছনে রাকিবের মরদেহ ভেসে উঠলে এলাকাবাসী তা উদ্ধার করে।
এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জনে। এর আগে গত বুধবার দুপুরে ট্রলারডুবির পর সেদিন রাত পর্যন্ত চলা উদ্ধার অভিযানে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এদিকে নৌকাডুবির কারণ খুঁজে বের করা এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে করণীয় নির্ধারণে গত বুধবার রাতেই নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বুলবুল আহমেদকে ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফখরুল হাসান চৌধুরী, থানার ওসি মো. রমিজুল হক এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল। এ কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ইউএনও বুলবুল আহমেদ গতকাল দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। আগামীকালের (শুক্রবার) মধ্যে প্রতিবেদন সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।’
গত বুধবার দুপুরের দিকে গোবিন্দশ্রী এলাকায় ৪৮ জন পর্যটক নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকাটির ৩০ আরোহী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অন্যরা উঠতে পারেননি। পরে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ওইদিন রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর ও গৌরীপুর উপজেলায়।
