রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু, নারীসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার গভীর রাত থেকে গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গতকাল বিকেলে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া একই দিন ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় পাঁচ দিনমজুরসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মুক্তাগাছার মানকোন বোর্ডঘর এলাকায় জামালপুরগামী একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালকসহ সাতজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন অটোরিকশাচালক মো. আলাদুল (৩৫), নজরুল ইসলাম (৩৫), তাসলিমা (২৮), তার মেয়ে লিজা (১২) ও নুরু (৩৫)। তারা সবাই মুক্তাগাছা ও টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বাকি দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ^াস জানান, নিহতরা সবাই শ্রমিক। ঈদ শেষে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন তারা। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
এদিকে চুয়াডাঙ্গার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল ভোর ৬টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজারসংলগ্ন একটি পেট্রলপাম্পের পাশে কয়েকটি নসিমন ও আলমসাধু দাঁড়িয়ে ছিল। সেগুলোর ওপরে বসা ছিলেন ১০-১৫ জন দিনমজুর। এ সময় মেহেরপুরগামী একটি বাস বেপরোয়া গতিতে এসে দুটি আলমসাধু ও একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় অন্তত ১০ জন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন মো. সোহাগ (২৫), শরীফ হোসেন (৩২), রাজু হোসেন (৩৫), শরিফুল ইসলাম (৪০), মিলন আলী (৪০) ও ষষ্ঠী হাওলাদার (৩৫)। তারা সবাই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, চালকসহ বাসটি আটক করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের চার জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু, নারীসহ আরও সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুজন; মানিকগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুজন; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন; খুলনায় ট্রাকচাপায় এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। বিস্তারিত আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :
ঢাকা : রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার সকালে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে গাড়িচাপায় সাদিকুর নাহার লিপি (৩০) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া শুক্রবার রাতে শনির আখড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. পারভেজ (২৮) নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত লিপির স্বামী সোহরাব হোসেন জানান, শনিবার সকালে রায়েরবাগে তেলবাহী একটি গাড়ি পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে তিনি ও তার স্ত্রী লিপি গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা লিপিকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কে এম আজিজুল হক জানান, শুক্রবার রাতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হন পারভেজ। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ : রূপগঞ্জে ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে উপজেলার রূপগঞ্জ-আড়াইহাজার সড়কের সাওঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার মো. ওয়াজিব (১৪) ও শরীয়তপুরের ডামুরডা থানার নাসির মাতবর (২৮)। ভুলতা ফাঁড়ির এসআই পরিমল সূত্রধর জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সাওঘাট এলাকায় একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে বিপরীতমুখী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাচালক নাসির ও ওয়াজিব নামে এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ট্রাকটি আটক করা গেলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
মানিকগঞ্জ : সাটুরিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার সকালে হরগজ পূর্বনগর মসজিদের সামনের সড়কে অটোভ্যানচাপায় রবিউল ইসলাম (৭) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া একই দিন বিকেলে সাটুরিয়া-বালিয়াটী সড়কের সওদাগরপাড়ার হাতি গেটের সামনে মোটরসাইকেল-বাইসাইকেলের মুখোমুখি সংর্ষে মো. জামাল হোসেন (৬৫) নামে এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মতিয়ার রহমান মিঞা জানান, নিহত রবিউলের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর জামাল হোসেনের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করা হয়েছে।
খুলনা : ডুমুরিয়ায় ট্রাকচাপায় মো. ইমান আলী মোল্লা (৭০) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার আঙ্গারদোহা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইমান আলী ওই উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের চহেড়া গ্রামের বাসিন্দা। ডুমুরিয়া হাইওয়ে ফাঁড়ির ওসি আবদুল্লাহ হক জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোটরসাইকেলে করে খুলনা থেকে ফিরছিলেন ইমান আলী। পথে আঙ্গারদোহা নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
