স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশনের জন্য যেসব নীতিমালা আছে তা অযৌক্তিক। এগুলো পালন করতে গেলে শতকরা ৮০ ভাগ হাসপাতাল রেজিস্ট্রেশন পাবে না। ঘুষ দিতে পারেন না বলে নিজের হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশনের নীতিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হয় না।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকারের নীতিমালা মেনে রেজিস্ট্রেশন করতে হলে শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরের অনেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তো কখনই রেজিস্ট্রেশন পাবে না। গণস্বাস্থ্যের মতো একটা হাসপাতালের যদি রেজিস্ট্রেশন না থাকে, তাহলে বোঝা উচিত কোথাও একটা গন্ডগোল রয়েছে। হয় গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের দোষ আছে, না হয় সরকারের আইনকানুনে ত্রুটি আছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন না থাকার ফলে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষের টাকা ছাড়া কোনো বেসরকারি হাসপাতালকেই এখন আর রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় না। আমরা ঘুষ দিতে পারি না বলে আমাদের হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশনও হয় না।
গতকাল শনিবার কভিড-১৯ প্রতিরোধ ও আক্রান্ত রোগীদের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের টাস্কফোর্সের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব ও উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী সাংবাদিকদের জানান, ২৩ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন না করলে বেসরকারি হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জিআর কভিড-১৯ র্যাপিড ডট ব্লট কিট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালের লাইসেন্স নেই। তবে হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশনের জন্য টাকা জমা দিয়ে আবেদন করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশনের জন্য পরিবেশের ছাড়পত্র লাগে। এই ছাড়পত্রের জন্য যোগাযোগ করা হলে বলা হয়, বিল্ডিং ভেঙে নতুন ভবন করতে হবে। না হলে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। ফায়ার সার্ভিসের সার্টিফিকেটের জন্য গেলে বলা হয় রাজউকের অনুমোদনের কপি লাগবে। কিন্তু হাসপাতাল তো অনেক আগেই করা হয়েছে। তখন তো এসব নীতিমালা ছিল না।
‘হাসপাতাল রেজিস্ট্রেশনের কী এমন নীতিমালা আছে যে যা পূরণ করা সম্ভব নয়’Ñ সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগে হাসপাতালের লাইসেন্স ফি ছিল ৫ হাজার টাকা। হঠাৎ করে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এটা তো হতে পারে না। একবারে এত বেশি রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো কতটা যৌক্তিক। শেষ পর্যন্ত তো হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর কাছ থেকেই অর্থ আদায় করতে হয়। এছাড়া ‘বিহাইন্ড দ্য টেবিল’, ‘আন্ডার দ্য টেবিল’-এর কিছু বিষয় তো রয়েছেই।
তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের হেলথের লাইসেন্স তো দূরের কথা তাদের ট্রেড লাইসেন্সই ছিল না। তারা কী করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের টেস্ট করার অনুমতি পেল।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নিবন্ধন ফি এবং নিবন্ধন নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার ও সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স নবায়নের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিস্তারিত বিবরণ, সিটি করপোরেশনের ছাড়পত্র, কর সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য নথি প্রয়োজন। এসব হাসপাতালকে নিয়মিত নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এসব কাগজপত্র দিতে পারে না বলে লাইসেন্স নবায়ন করতে পারে না বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযানের পরে আলোচনায় আসে লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি।
