শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লাজমা সংগ্রহ করে বিক্রির অভিযোগে আহসানুল ফরিদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে আটক করে। ভুক্তভোগী এক রোগীর ছেলে বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় আহসানুল ফরিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, আহসানুল ফরিদ করোনা আক্রান্ত মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি ফেইসবুকে পেইজ খুলে প্লাজমা বিক্রি করে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার এস এম শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আহসানুল ফরিদ বেশ কিছুদিন ধরে নিজের অথবা আত্মীয়ের জন্য প্লাজমা লাগবে বলে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে ১০ হাজার টাকা ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে ৩ হাজার টাকা মূল্যে প্লাজমা সংগ্রহ করে পরে তা অন্য জায়গায় চড়া দামে বিক্রি করত বলে জানতে পেরেছি। এই প্রতারণার ব্যবসা করার জন্য ফেইসবুকে পেইজও খুলেছে ফরিদ। এখন পর্যন্ত অন্তত চারজনের কাছে প্লাজমা বিক্রি করেছে বলে সে নিজেই স্বীকার করেছে। এই চক্রে আর কারা রয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদশর্ক (এসআই) মো. জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার ফরিদ ধানম-ি এলাকায় থাকেন। তিনি স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীকে প্লাজমা সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে ওই রোগীর ছেলে আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে অভিযান চালিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটের ব্লাড ব্যাংক থেকে প্লাজমা সংগ্রহের সময় তাকে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী ওই রোগীর ছেলে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।’
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি সে (ফরিদ) শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী সংস্থা বাঁধন এবং রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুকৌশলে প্লাজমা সংগ্রহ করত। এরপর তা চড়া দামে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করত।’
অন্যদিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে প্লাজমা নিতে হলে অনেক নিয়মকানুন মানা হয়। রোগীর বিষয়ে আমরা বিস্তারিত খবর নিই এবং তার চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসকের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলি, এরপরই প্লাজমা দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি (ফরিদ) কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের নাম দিয়ে প্লাজমা সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছিল। এরপর আমরা বিভিন্নভাবে তার তথ্য জানার চেষ্টা করি এবং জানতে পারি সে প্রতারক। সর্বশেষ পুলিশ তার বিষয়ে খবর পেয়ে ইনস্টিটিউট থেকে আটক করে নিয়ে গেছে।’
