ফিরছেন বিনিয়োগকারী লেনদেন-সূচকে উল্লম্ফন

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২০, ০৭:১০ এএম

করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করছে দেশের পুঁজিবাজার। ব্যাংকসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ না বাড়লেও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেন ও সূচকে উল্লম্ফন দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক কেনাবেচার পরিমাণ বেড়েছে ৬২ শতাংশের বেশি। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কেনাবেচা বেড়েছে ৯৪ শতাংশ। একই সময়ে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সূচকও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। শেয়ার ক্রয়ের চাপ বাড়ায় টানা ১০ দিনের উর্ধ্বগতিতে রয়েছে বাজার পরিস্থিতি।

গত সপ্তাহের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭২৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেনের পরিমাণ ৫০ কোটি থেকে ৯৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। পুঁজিবাজারের চাঙাভাবে ব্যক্তিশ্রেণির পাশাপাশি বিদেশিরাও শেয়ার বিক্রির চেয়ে ক্রয় বেশি করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। ২০১৮ সাল থেকে টানা আড়াই বছরের দরপতনে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে নিচে থাকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিরাও বিনিয়োগ করছেন। যদিও ২০১৮ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিদেশিরা শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। এখন চাঙাভাব ফিরে আসায় কম দরে শেয়ার কেনার সুযোগ নিচ্ছেন তারা। বিদেশিদের শেয়ার ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসইসির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। যদিও চলতি মাসে কী পরিমাণের বিদেশি নিট বিনিয়োগ এসেছে তার জানা যায়নি।  

বাজার চাঙা হওয়ায় এখন অধিকাংশ শেয়ার ফ্লোর প্রাইসের ওপরে কেনাবেচা হচ্ছে। গত সপ্তাহের বুধবার পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ২৭৮টি সিকিউরিটিজের দর ফ্লোর প্রাইসের ওপরে ছিল। এ সময়ে ফ্লোর প্রাইসে আটকা ছিল ৯০টি সিকিউরিটিজ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৫৯টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ২৬০টির, কমেছে ৪২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৫৭টির দর। আগের সপ্তাহে দরবৃদ্ধি পাওয়া সিকিউরিটিজ ছিল ২০৫টি।

অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়ায় গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে সূচকটি ১৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৪৩৬৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এ নিয়ে টানা ১০ কার্যদিবসে সূচকটি ২৮৮ পয়েন্ট বেড়েছে। এর ফলে সূচকটি করেনাপূর্ব ৫ মার্চের অবস্থানে ফিরেছে।

খাতওয়ারি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তথ্যপ্রযুক্তি, ইস্পাত, বিবিধ, ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত ও মিউচুয়াল ফন্ডের দর। এর মধ্যে ইস্পাত খাতের বাজার মূলধন বেড়েছে ১১ শতাংশ। আর তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাজার মূলধন ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার গড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে টেলিযোগযোগ খাতের বাজার মূলধন কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে পিপলস ইন্স্যুরেন্স, নিটোল ইন্স্যুরেন্স, একটিভ ফাইন কেমিক্যাল, সিলকো ফার্মা, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স ও নাভানা সিএনজি।       

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত