মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের চিরচেনা সবুজ ঘাসও এদিন বড় অচেনা মনে হলো। চেনা-জানা পরিবেশটাকেও কেমন নতুন লাগে মুমিনুল হকের। কতদিন পর এলেন অনুশীলনে? তাও তো চার মাস পেরিয়ে গেছে। অবশ্য সেই চেনা জমিনে পা রেখে সবকিছু আপন করে নিতে সময় লাগেনি। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক ওখানে গতকাল পা রেখেছেন মাথায় টেস্টের প্রস্তুতির কথা রেখেই। তার কথাতেও সামনে টেস্ট খেলতে নামার প্রসঙ্গ।
ঈদের পর গতকাল জাতীয় পুলভুক্ত ক্রিকেটারদের অনুশীলন শুরু হলো আবার। এবার পাঁচ ভেন্যুতে ক্রিকেটারের সংখ্যা বেশি। মোট ২৭ জনের ১৫ জনই মিরপুরে। প্রথম দিনের একক অনুশীলনে ছিলেন মুমিনুল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম, মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান, শফিউল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, আল-আমিন হোসেন, মেহেদী হাসান রানা আর তাইজুল ইসলাম।
ঢাকার বাইরে খুলনায় প্র্যাকটিস ছিল মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নুরুল হাসান সোহান, সিলেটে তিন পেসার আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও স্পিনার নাসুম আহমেদের। চট্টগ্রামে স্পিনার নাঈম হাসান, ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী রাব্বি ও ইরফান শুক্কুরের ট্রেনিং ছিল। রাজশাহীতে অনুশীলন ছিল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত ও স্পিনার সানজামুল ইসলামের।
সেই মার্চ থেকে মুমিনুলও অন্যদের মতো ঘরে বসা। ঘরে থেকেই ফিটনেস ট্রেনিং করেছেন। সেটাও বেশ ভালো হচ্ছিল। কিন্তু দরকার তো স্কিল নিয়ে কাজ করা। ব্যাটিং। হচ্ছিল না সেটা। রানিং আর নেটে বোলিং মেশিনের সামনে ব্যাটিং প্রথম দিনেই করেছেন মুমিনুল।
এতদিন পর মাঠে ফিরে কেমন লাগছে? মুমিনুল বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। অনেক দিন পর ক্রিকেটে ফিরতে পেরেছি। খুব ভালো লাগছে।’ এরপরই বলেন সবকিছু অচেনা লাগার কথা ‘প্রথম দিন হওয়ায় সব কিছু নতুন নতুন লাগছে। মানিয়ে নিতে হয়তো সময় লাগবে। দুই-তিন দিন বা চার-পাঁচ দিন। আশা করছি খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পারব।’
এদিন শুরু করেছেন জাতীয় দলের টি২০ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। তার দলেরও অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ খেলতে হতে পারে। সব ঠিক থাকলে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পড়ার পর বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ হবে টেস্টের। সুতরাং টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুলের ডাক পড়বে আগে। মানসিকভাবে তাই মুমিনুল টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন প্রথম সুযোগ থেকে। আশা নিয়ে জানালেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যখন আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাব (তার আগে) আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি পাব; প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস ম্যাচসহ প্রস্তুতি খুব ভালো হবে আশা করি। সব প্রস্তুতি নিয়ে ভালোভাবে টেস্ট ম্যাচ শুরু করতে পারব।’
মুমিনুল শুধু টেস্ট খেলেন। ফেব্রুয়ারিতে শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। এরপর তো ঘরে বন্দি হয়ে যাওয়া। ‘যেহেতু চার-পাঁচ মাস বাইরে ছিলাম। অবশ্যই ক্রিকেটটা অনেক মিস করেছি। বিশ্বের অনেক দল ক্রিকেটে ফিরছে। ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের দেখলে অবশ্যই খারাপ লাগে, মিস করি। আমরাও আস্তে আস্তে ক্রিকেটে ফেরার চেষ্টা করছি।’
করোনার কারণে মাঝের লম্বা সময় অযথা চলে যাওয়ায় লোকসান আছে নানা দিকে, তারপরও ওই সময় থেকেও ভালো কিছু অর্জনের কথা জানালেন মুমিনুল। ‘লকডাউনের সময় আমরা ক্রিকেট নিয়ে অনেকটা চিন্তাভাবনা করার সুযোগ পেয়েছি। যেহেতু কোনো কাজ ছিল না। কেউ ফিটনেস কাজ করেছে। কেউ সাইকোলজিক্যালি কাজ করেছে। কোচদের সঙ্গে টেকনিক্যাল, ট্যাকটিক্যাল কাজ করেছে।’ দেশের পক্ষে ৪০টি টেস্ট, ২৮টি ওয়ানডে ও ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা ২৮ বছরের মুমিনুল বলছিলেন, ‘অনেকে তার ব্যক্তিগত কাজ করেছে যে কীভাবে নিজের খেলার আরও উন্নতি করা যায়। আমার কাছে মনে হয় খুব বেশি ভালো আলোচনা হয়েছে... যেসব দিয়ে আমরা ভালো কিছু আশা করতে পারি। খেলার ভেতরে থাকলে এসব নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ কম হয়।’
