করোনা মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি দেশ মোটামুটি সাফল্যের দিকেই এগোচ্ছিল। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন, জনসচেতনতা, চিকিৎসাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ইত্যাদি কারণে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসায় অনেকেই ভেবেছিল দেশগুলোতে হয়তো করোনাভাইরাসের প্রকোপ বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দেশগুলো নতুন করে সংক্রমণের মুখে পড়ছে। দ্বিতীয় দফায় নতুন প্রাদুর্ভাব নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
অস্ট্রেলিয়া
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়ালে বিভিন্ন দেশ যখন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, তখন অস্ট্রেলিয়ায় কয়েকটি সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে দ্রুত ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এজন্য বেশ প্রশংসাও পায় তারা। যুক্তরাজ্যের মতো অস্ট্রেলিয়াও ১৯ মার্চ থেকে চীন থেকে আসা দেশটির নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দা নয় এমন যাত্রীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। সামাজিক দূরত্বের ওপর জোর দেওয়া শুরু করা হয়, বাড়ানো হয় পরীক্ষার সংখ্যা, সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকলে রেস্টুরেন্ট ও বার বন্ধ করে দেওয়া হয়, কিছু রাজ্য তাদের বর্ডার একদম বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন পর প্রাদুর্ভাব কমে বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ৮ মে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ঘোষণা করেন জুলাই মাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবকিছু খুলে দেওয়া হবে। সে সময় ৯৭ জনের মৃত্যুসহ অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭,০০০। বিগত ১০০ বছরের মধ্যে জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুই জনবহুল রাজ্য ভিক্টোরিয়া এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের বর্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়। মেলবোর্নে লকডাউন মানা হচ্ছিল কঠিনভাবে। ছয় সপ্তাহের জন্য শহরটিতে কারফিউ দেওয়া হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় নয় এমন সব ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ রাখা হয়, স্কুলের ক্লাস নেওয়া হয় অনলাইনে। কারফিউয়ের সময়ে প্রতি বাড়ি বাড়ি থেকে শুধু একজন ব্যক্তি জরুরি পণ্য নেওয়ার জন্য বের হতে পারতেন। বাড়ি থেকে বের হলেও পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই তাদের থাকতে হতো।
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্য দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল এলাকা। জুলাই মাসে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলার জন্য খুলে দেওয়া হলে কভিড-১৯-এ সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে যায় ভিক্টোরিয়ায়। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ আগস্ট রাজ্যটি এক দিনেই ৬৭১টি নতুন সংক্রমণের খবর জানায়। ২ আগস্ট, রবিবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রধান ডেনিয়েল অ্যান্ড্রু এই পরিস্থিতিকে ‘স্টেট অব ডিজাস্টার’ বলে জানান। ৩ আগস্ট, সোমবার ভিক্টোরিয়ার প্রধান স্বাস্থ্য অফিসার প্রফেসর ব্রেট সাটন জানান, রাজ্যটিতে কভিড-১৯-এ মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৬-এ, সংক্রমণের সংখ্যা ১১,৯৩৭। সোমবার নাগাদ অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮,০০০-এ এবং মারা যান ২২১ জন।
হংকং
জানুয়ারি মাসেই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বেশ প্রশংসা পায় চীনের হংকং। ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে তারা যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল ভাইরাস ম্যাপ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বারবার হাত ধোয়া, মাস্কের ব্যবহার যথাযথভাবে করা এবং পিপিই পরা। হংকং প্রমাণ করেছিল এসব পদ্ধতিই কাজে আসছে। মার্চ মাস শুরু পর্যন্ত ৭০ লাখ মানুষের বসবাস করা এ শহরে সংক্রমণের রিপোর্ট হয় মাত্র ১৫০টি। স্বাভাবিকভাবেই এমন ফলাফলে হংকং সবার কাছে প্রশংসা পেতে শুরু করে। ভাইরাসের প্রকোপ এত দিন পর্যন্ত কম থাকলেও মার্চ মাসে হংকংয়ের বাসিন্দারা যখন আবার ভাইরাস সঙ্গে নিয়ে শহরে ফিরতে শুরু করেন, তখন দ্বিতীয় দফায় শহরটি আবার সংক্রমণের মুখে পড়ে। আবার হংকংয়ের স্থানীয় বাসিন্দা নয়, এমন ব্যক্তিদের শহরে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়, শহরের এয়ারপোর্ট দিয়ে পরিবহন বন্ধ করা হয়, কঠোরভাবে কোয়ারেন্টাইন মানা হয়, সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে পরীক্ষা। কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসতে থাকে। এত কিছুর পরও সাম্প্রতিক সপ্তাহে হংকংয়ে নতুন ১০০০ আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি এ সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তাহলে এবার হয়তো আর সামাল দেওয়া যাবে না। নতুন করে আবার নিয়ম জারি হয় দুজনের বেশি মানুষ কোনো জায়গায় একত্র হওয়া যাবে না, জিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ভ্রমণকারীরা দেশে এলে অবশ্যই তাদের সঙ্গে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে সে প্রমাণ রাখতে হবে। শুরু থেকেই শহরটির জনগণ মাস্ক ব্যবহার করলেও জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো মাস্ক ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করা হয়। ৩ আগস্ট, সোমবার শহরে ৮০টি নতুন সংক্রমণ এবং দুজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। এ মুহূর্তে শহরটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৫৯০ এবং মৃত্যু ৩৭। হংকংয়ের এশিয়া ওয়ার্ল্ড-এক্সপো সেন্টারকে ৫০০ বেডের হাসপাতাল বানানো হয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে সেখানে রোগী ভর্তি করা শুরু হয়েছে।
জার্মানি
ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে জার্মানির সাফল্যের গল্পে অনুপ্রাণিত হয়েছিল অনেক দেশ। শুরু থেকেই তারা বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে কাজ করছিল। মার্চ মাসে যেখানে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মারা যাচ্ছিল ৪ শতাংশ মানুষ, সেখানে জার্মানিতে মৃত্যুহার ছিল মাত্র ০.৪ শতাংশ। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল খুব ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেন করণীয় নিয়ে। পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দেন, কীভাবে চলাচল করতে হবে তা নিয়ে বেশ কিছু নিয়ম জারি করেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সবার সাধুবাদও পান তিনি। মার্কেল জানিয়েছিলেন, দ্রুত দেশটির সবকিছু চালু করে দেওয়া হবে। লকডাউন পদ্ধতি শিথিল করে দেওয়ায় মে মাসে এক দিনেই আক্রান্ত হওয়ার ৯০০টি ঘটনা সামনে আসে। এক কথায়, বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন থেকেই। জুন মাসে, নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়ার একটি মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় এক হাজার কর্মীর কভিড-১৯ পজিটিভ এলে নতুনভাবে সেখানে আবার লকডাউন দেওয়া হয়। জার্মানির রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল থেকে জানানো হয়, মে মাসের শুরু থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা সে মাসেই ছিল। গত শুক্রবার ৯৫৫টি নতুন ঘটনা সামনে এসেছে। জার্মানির অর্থমন্ত্রী পিটার আটমেয়ার এই সংখ্যাকে ‘ভীতিকর’ বলে জানিয়েছেন। জায়গাটি হট স্পট না হলেও ইনফেকশন ছড়ানোর জন্য নর্থ রাইন ওয়েস্টফেলিয়া একটি জায়গা। তার মতে, সামনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য বর্তমানের এ অবস্থার একটি নাম দেওয়া উচিত। দ্বিতীয় দফায় প্রাদুর্ভাবের এ সময় আবার সামাজিক দূরত্ব এবং সুরক্ষা মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অন্য দেশ থেকে যারা আসছেন, তাদের বিনামূল্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। যেসব দেশ ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত, সেখান থেকে যারা আসছেন তাদের জন্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
ভিয়েতনাম
৯৭ মিলিয়ন জনগণের দেশ ভিয়েতনামে এপ্রিল মাস থেকে তিন সপ্তাহের জন্য জাতীয়ভাবে লকডাউন দেওয়া হয়। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ভিয়েতনামে এয়ারপোর্টে যাত্রীদের নিয়মের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়, মানা হয় কঠিন নিয়মে কোয়ারেন্টাইন এবং মনিটরিং প্রোগ্রাম। এসব নিয়মে ভালো সাফল্যই পায় ভিয়েতনাম। দেশটিতে ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ঘটনা শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই তারা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল। যখনই সংক্রমণের প্রথম ঘটনা সামনে আসে, তখনই দেশটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে। চীন লকডাউনের পর বড় আকারে ফেব্রুয়ারি মাসে একমাত্র ভিয়েতনামই বিস্তৃতভাবে লকডাউন করে ফেলে পুরো দেশ।
এত কিছুর পরও দেশটিতে সংক্রমণ সামলানো যায়নি। ১০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো সংক্রমণের ঘটনা যে দেশে ঘটেনি, সেখানে জুলাই মাসে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়। দেশটির কেন্দ্রীয় শহর দা নাংয়ে যখন তিনজন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তখনই সরকার সেখানে অবস্থান করা ৮০ হাজার পর্যটককে সরিয়ে নেয়, দেশের ভেতর সব রকম ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়, সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক করে। এত সাবধানতার পরও গত সপ্তাহ থেকে ইনফেকশন দ্রুত ছড়াতে থাকে। ভিয়েতনামে এ মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪২, মৃত্যুর সংখ্যা ৬। সোমবার পর্যন্ত রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এমন ব্যক্তি এবং মহামারীর দেশ থেকে এসেছেন এমন সব ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
জাপান
কথিত লকডাউন ছাড়া জাপানও বেশ ভালোভাবেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছিল। ২৫ মে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে জানান, দেড় মাসের মধ্যেই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে জাপান সক্ষম হয়ে যাবে এবং আবার আগের মতো সামাজিক এবং অর্থনৈতিক জীবনযাপন শুরু করবে। করোনাভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই নতুন জীবন শুরু করবে জাপান। তবে যেভাবে ভাবা হয়েছিল, দেশটির পরিস্থিতি সেদিকে যায়নি। মহামারী শুরু থেকে আক্রান্তের সংখ্যা যত ছিল, এ মুহূর্তে সংখ্যা আরও বাড়ছে। ২ আগস্ট, রবিবার জাপানে ১৩৩১টি নতুন নতুন ঘটনা সামনে এসেছে। পঞ্চম দিনে দেশটিতে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, এতে সংক্রমণের ঘটনা দাঁড়িয়েছে ৩৯,৩৯৯টিতে এবং ১,০২৫ জনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। জাপানের নতুন গবেষণা থেকে জানা গেছে, হাসপাতালের বাইরে ৪০ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি বা অসুস্থ বোধ করছেন না এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভাইরাসের জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে। মাস্ক ব্যবহারের সঠিক গুরুত্ব না বোঝায় অনেকেই এগুলো নিয়ম মেনে ব্যবহার করেননি। যার কারণে ভাইরাস ছড়িয়েছে দ্রুত।
সেকেন্ড ওয়েভ কী?
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পুরোপুরিভাবে আদতে কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। অনেক দেশে নতুন করে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। আবার যারা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছিল, তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ শুরু হচ্ছে। একে বলা হচ্ছে সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ। শতবর্ষ আগে স্প্যানিশ ফ্লু-ও দ্বিতীয় দফায় ফিরে এসেছিল এবং তাতে প্রথম দফার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের বেলাতেও এমন কিছু হতে যাচ্ছে। সেকেন্ড ওয়েভকে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সামুদ্রিক ঢেউ যেমন ওঠানামা করে, তেমনি করোনাভাইরাসের সংক্রমণও বাড়ে এবং পরে আবার কমে আসে। এই ওঠানামা বা বাড়া-কমার প্রত্যেকটা ধাপকে বলা হয় ঢেউ বা ওয়েভ। যদিও এর কোনো আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নেই। কেউ কেউ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াকে ওয়েভ বলেন। প্রথম ওয়েভেও কয়েকবার এই ওঠানামা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কিছু রাজ্যে সংক্রমণ কমে গিয়ে আবার বাড়ছে, আবার কমছে। প্রথম ঢেউটি তখনই সমাপ্ত হয়েছে বলা যাবে, যখন ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যাবে। এ ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। এরপর সংক্রমণ যখন উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে, তখনই সেটাকে দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভ বলা হবে।
ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দেশে জারি করা হয়েছে লকডাউন। কিন্তু এর ফলে সারা বিশ্বেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। বহু মানুষ চাকরি হারিয়েছে, বিঘিœত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও ঠিকমতো হচ্ছে না। তবে এটাও বাস্তবতা যে যতটুকুই হোক, লকডাউনের কারণে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে কত কম বিঘœ ঘটিয়ে করোনাভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা নিয়ে অবশ্য কেউ শতভাগ নিশ্চিত নন। আর এ কারণে লকডাউনের মতো বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেওয়া হচ্ছে নতুন নতুন ব্যবস্থাও। এসবের মধ্যে রয়েছে কনটাক্ট ট্রেসিং অর্থাৎ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের খুঁজে বের করে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা এবং মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা। যদি এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে না মানা হয়, তবেই দেখা দিতে পারে সেকেন্ড ওয়েভ। দেশগুলো দ্বিতীয় দফায় এসে কীভাবে এখন ভাইরাস সামলাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
