হাসপাতালে ‘অভিযান’ চালানোর পক্ষে নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ০৩:৪৪ এএম

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একক অভিযানের বিপক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এমনকি হাসপাতালগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে এই তৎপরতাকে ‘অভিযান’ বলতেও নারাজ তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘এটা অভিযান হবে কেন? হাসপাতালে কি অভিযান করে? হাসপাতালে ইনকোয়ারি করে। অভিযান তো করে চিটাগং হিল ট্রাক্টসে (পার্বত্য এলাকায়), সেখানে সন্ত্রাসী থাকে, তাই সেখানে অভিযান হয়।’ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন জাহিদ মালেক।

করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গত ৪ আগস্ট চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে অভিযান বন্ধ হয়ে গেল কি না জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালগুলো আইন ভাঙলে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটা সমঝোতা হয়েছে যে, এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে গেলে তা যৌথভাবে করা হবে। এককভাবে তারা কোনো জায়গায় যাবে না, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং দরকার হলে আমরাও তাদের নিয়ে যাব। কাজেই অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে, এ কথা ঠিক নয়।’

দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার এবং শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘একটি ল্যাবরেটরির বদলে ৮০টি ল্যাবরেটরিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। কিটের কোনো সংকট নেই। আমরা সব সময় আহ্বান করছি, আপনারা টেস্ট করতে আসুন। বন্যাজনিত ও নমুনা পরীক্ষা করতে মানুষের অনীহার কারণে টেস্টের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাসায় বসে রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন বিধায় পরীক্ষা করাতে আসছেন না। করোনা মোকাবিলায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ৯০ শতাংশ রোগী বাসায় চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। মুমূর্ষু না হলে হাসপাতালে আসছেন না। ফলে হাসপাতালে ৬০ শতাংশ বেড ফাঁকা থাকছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত