এফডিসিতে আলাউদ্দিন আলীকে শেষ শ্রদ্ধা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২০, ০৪:২০ পিএম

এমন এক সময় এফডিসিতে এলো আলাউদ্দিন আলীর মরদেহ, যখন বাংলা সিনেমার সূতিকাগারে নেই আগের সেই জৌলুস। শুধু আছে গৌরবময় অতীতের স্মৃতি। সেই ইতিহাসের সাক্ষি প্রয়াতের অসংখ্য জনপ্রিয় গান।

সোমবার দুপুরে এফডিসিতে পৌঁছায় কিংবদন্তি গীতিকার, সুরস্রষ্টা ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলীর মরদেহ। এই মেঘ এই রোদের লুকোচুরিতে অনেকে ব্যস্ত কান্না লুকাতে, আবার কারো চোখে জলের বন্যা। কেউ বা বলছিলেন পুরোনা দিনের কথা। সবাই শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখে নিচ্ছিলেন।

করোনা পরিস্থিতিতে অনেক দিন এফডিসিতে ছিল না ভিড়। সোমবার সেই ভয় পাশে রেখেই হাজির হয়েছেন অনেকে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরা ফুলে ফুলে শ্রদ্ধা জানান আলাউদ্দিন আলীকে।

দুপুর সোয়া ২টার পরে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করে এফডিসিতে।  অনুষ্ঠিত হয় তার দ্বিতীয় জানাজা।

রবিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানী মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আলাউদ্দিন আলী। এরপর রাতে তার মরদেহ রাখা হয় বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে।

সোমবার সকালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আলাউদ্দিন আলীর বনশ্রীর বাসায়। সেখানে বিটিভির সহকর্মী ও এলাকাবাসীর জন্য তাকে রাখা হয় দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এরপর নেওয়া হয় খিলগাঁওয়ে আলাউদ্দিন আলীর আদি বাড়িতে।

বাদ জোহর খিলগাঁও তালতলা মোড়ে নূর-এ-বাগ জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে আলাউদ্দিন আলীকে শেষবারের মতো এফডিসিতে আনা হয়। এখান থেকে মরদেহ যাবে মিরপুর কবরস্থানে। দাফনের আগে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।

আলাউদ্দিন আলী ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ছিল সংস্কৃতিমনা। সেই আবহেই সংগীতের সঙ্গে বেড়ে উঠা। তিনি গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পেয়েছেন আরও অনেক স্বীকৃতি। চলচ্চিত্র ছাড়াও দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানে উপহার দিয়েছেন অনেক কালজয়ী সৃষ্টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত