মহীউদ্দীন আলমগীরের হাসপাতালে অভিযান ১১ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ০৩:৩৪ এএম

নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সেবা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত টাস্কফোর্স।

গতকাল সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। এ সময় বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী ব্যবহারসহ নানা অপরাধে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে সাড়ে ৭ লাখ ও সেবা জেনারেল হাসপাতালকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স নেই। তাদের অপারেশন থিয়েটারে যেসব সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া গেছে, সেগুলো পাঁচ-ছয় বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী ব্যবহার করলে রোগীদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রতিষ্ঠানে যেসব চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন তারাও এটি কাক্সিক্ষত নয় বলেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিটি হাসপাতালের ল্যাবে অনুমতি ছাড়া ব্লাড ট্রান্সফিশন করা হচ্ছে। অভিযানে যেসব হাসপাতালের লাইসেন্স নেই, তাদের লাইসেন্স করার জন্য আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সময় বেঁধে দিয়েছে। এ কারণে আমরা সিটি হাসপাতাল সিলগালা করিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নিতে ব্যর্থ হলে এটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

অভিযান চলাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালগুলোর লাইসেন্স আছে কি না এবং ঠিকমতো সেবা দিচ্ছে কি না তা দেখতেই আমরা অভিযান চালাচ্ছি। কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা সিলগালা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাচ্ছি, সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মের মধ্যে চলুক, সেবা নিশ্চিত করুক।’

অভিযানকালে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের সদস্যরা। এ সময় তারা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী দেখতে পান। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে ফ্রিজে ওষুধ ও খাবার একসঙ্গে রাখা ছিল। হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও অকেজো পান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার ছয় বছরেও ৫০০ শয্যার সিটি মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ তৈরি করা হয়নি। বেশিরভাগ শর্ত পূরণ না করেও বিশেষ বিবেচনায় মেডিকেলে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যেই করোনা চিকিৎসার জন্য ১০০ শয্যার ইউনিট চালু করা হয় এবং পরে গুটিয়ে নেওয়া হয়। সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুটি ভবন। একটি ভবন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার ইটাহাটার বি-ব্লকে। ভাড়া করা এ ভবনের মালিক মো. সাহাবুদ্দিন। করোনার কারণে ভবনটি বন্ধ। সেখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয়। ওই ভবন থেকে চান্দনা চৌরাস্তার দিকে এক-দেড় কিলোমিটার সামনেই আরেকটি ভবন। সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। নিচতলায় ফার্মেসি, বিলিং সেকশন, জরুরি বিভাগসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বার। দ্বিতীয় তলায় হাসপাতালের চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের অফিস। কলেজ ও হাসপাতাল ভবনে ঢুকতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল। এর নিচে নামফলকে লেখা গত ১৭ মার্চ এটি উদ্বোধন করেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর।

হাসপাতাল ও কলেজ করার প্রথম শর্ত নিজস্ব ভবন থাকা। কিন্তু কলেজ ভবনটি ভাড়া করা আর হাসপাতাল ভবনের পাঁচটি ফ্লোরের মালিক এসএম বদরুদ্দোজা। শুধু একটি ফ্লোরের মালিক কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। শর্ত অনুযায়ী ৫০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক থাকার কথা ১৫০, কিন্তু আছেন ৪০ জন। নার্স থাকার কথা ৩০০, আছেন ১৫ জন। চিকিৎসক বাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১০২। এ জনবল নিয়েই বাড়তি ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়।

এ বিষয়ে সিটি হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আবদুল হামিদ বলেন, ‘করোনা রোগীর চিকিৎসায় আমরা ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি টিমের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমাদের পিসিআর ল্যাব নেই। এখান থেকে শুধু নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রোগী তেমন পাওয়া যায়নি। এজন্য পরে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।’

সিটি হাসপাতালের পর বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সেবা জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী, রক্ত পরিসঞ্চালনের অনুমতি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করা হয়।

টাস্কফোর্সের অভিযানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া, গাজীপুর র‌্যাব-১-এর কমান্ডার লে. কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত