বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার (২০০১-২০০৬) র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গঠন করে দেশে কথিত ক্রসফায়ার শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় আসনে আসার পর থেকে ক্রসফায়ারের বিরোধিতা করে আসছে দলটি। এখন ক্রসফায়ারকে মানবাধিকারবিরোধী কর্মকান্ড হিসেবে অ্যাখায়িত করে এর ইতি টানার দাবি করছে দলটি। সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের হত্যাকা-ই যেন হয় শেষ হত্যাকান্ড। এজন্য শিগগিরই দলের পক্ষ থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্রসফায়ার মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো একটি জঘন্য অপরাধ। বিএনপি শুধু ক্রসফায়ার না, সব ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ চায়। অনেক হয়েছে ক্রসফায়ার, আর নয়।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের হত্যাকান্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বিএনপির পক্ষ থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি সে সময় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দমনে র্যাব গঠন করে। উদ্দেশ্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দমন করা। বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার কাজে র্যাব প্রতিষ্ঠা করেনি। তখন পুলিশকে দিয়ে এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। পুলিশের সব সদস্য অপরাধী নয়। মুষ্টিমেয় কিছু পুলিশ এ কাজের সঙ্গে জড়িত।
দলের প্রভাবশালী স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য র্যাব গঠন করা হয়। সে সময় দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসীদের যে তালিকা করা হয়েছিল তাদের জন্যই র্যাব তৈরি করা হয়েছিল। তখন এ নিয়ে কোথাও ক্ষোভ দেখা যায়নি। বরং সাধারণ মানুষ খুশি হতো। কিন্তু এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শেষ করে দিতে পুলিশ দিয়ে ক্রসফায়ার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপির সময় পুলিশ কাউকে ক্রসফায়ার দেয়নি। কিন্তু পুলিশের সহযোগিতায় রাতের অন্ধকারে আওয়ামী লীগ ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে বলে এখন তারা পুলিশকে থামাতে পারছে না। পুলিশ বেপরোয়া হয়ে গেছে। তার ফল জনগণ দেখেছে টেকনাফে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে কীভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সারা দেশের জনগণকে নাড়া দিয়েছে। জনগণ এখন ক্রসফায়ার দেখতে চায় না।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র্যাব) গঠন করে। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনে একটি চৌকস বাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে র্যাব গঠিত হয়।
বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিএনপি সরকার একটি মহৎ উদ্দেশ্যে র্যাব গঠন করে ক্রসফায়ারে দেয় সন্ত্রাসীদের। তখন ওইসব সন্ত্রাসীকে ক্রসফায়ার দেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছিল। তারা খুশিতে মিষ্টি বিতরণ করত। কিন্তু এখন বর্তমান সরকার এটাকে নিজেদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থে পুলিশ দিয়ে সরকারবিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ দিয়ে ক্রসফায়ারকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, সর্বশেষ টেকনাফে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানসহ এ পর্যন্ত যত বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- হয়েছে তার তালিকা সংগ্রহ করছি। সংবাদ সম্মেলনে তা প্রকাশ করা হবে।
