ভিডিও বার্তায় কাদের

১৫ আগস্ট এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২০, ০৬:০৮ এএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারী-বিশ্বাসঘাতকদের প্রেতাত্মারা এখনো আছে। তাই আগস্ট এলেই আমাদের নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। দুশ্চিন্তায় থাকি।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জোনের বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় সভা করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশের মাটি বীরের বীরত্বগাথায় ভরপুর, আবার বিশ্বাসঘাতকতারও নিকৃষ্ট নজির এখানে আছে। দেশ প্রেমে যেমন বিরল দৃষ্টান্ত, তেমনিভাবে ষড়যন্ত্রেরও গন্ধ রয়েছে। এ দেশে ঘটনার আগেও কিছু বোঝা যায় না। হঠাৎ করেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে চোখের পলকে ১৫ আগস্ট ঘটানো হয়েছে। ২১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল কারা? কারা তখন ক্ষমতায় ছিল? বিএনপিই ছিল মাস্টারমাইন্ড। যারা জর্জ মিয়া নাটক সাজিয়ে এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে ঘোরানোর চেষ্টা করেছিল তাদের মুখে হত্যার বিচার চাওয়া শোভা পায়?

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করছেন তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নাকি গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, রাজনৈতিক কারণে কাকে, কোথায় গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে ফখরুল সাহেব আপনি তথ্য-প্রমাণ দিন। অপরাধী, সন্ত্রাসী, দুর্বৃত্তদের কোনো দল ও দলীয় পরিচয় নেই। তারা যদি সরকার দলেরও হয়, তাকে যদি প্রধানমন্ত্রী ছাড় না দেন এবং ব্যবস্থা নেন সেখানে আপনাদের কেউ হলে সেটাকে কেন রাজনৈতিক ইস্যু করে তুলবেন?

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার অপরাধীকে অপরাধীর চোখেই দেখে। কোথাও রাজনৈতিক কারণে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।

ঈদে যাত্রী পরিবহন ও ভাড়া আদায়ে গণপরিবহনের মালিকরা সরকারকে দেওয়া কথা রাখেনি বলে জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি এবং মালিক-শ্রমিকের প্রতিশ্রুত সমন্বয় করা ভাড়া নিচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের সময় যারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেননি, অর্ধেক আসন খালি রাখার কথা থাকলেও অনেক পরিবহন তা মানেননি। গণপরিবহন, ফেরিঘাট, শপিং মলসহ অন্যান্য স্থানে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে অনেকের উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। অনেকই সংক্রমণের লক্ষণ লুকিয়ে চলাফেরা করছেন। আপনারাও দেখছেন নমুনা পরীক্ষায় শতকরা শনাক্ত ২০ থেকে ২৫ ভাগে অবস্থান করছে কিছুদিন ধরে। আবার কিছু কিছু দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ আঘাত হানছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের উদাসীনতা ভয়ানক ঝুঁকিতে ফেলে দেবে বাংলাদেশকে। নিজের পরিবারের, প্রতিবেশীর সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমি অভিভাবকদের ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত