নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে সোমবার রাতে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা হলোÑ উপজেলার নাজিম উদ্দিন খানের ছেলে কদমরসুল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মিহাদ (১৮) ও বন্দর প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিনের ছেলে বিএম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জিসান (১৫)।
নিহতের স্বজনদের দাবি, শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে বন্দরের ইস্পাহানী ঘাট এলাকায় সোমবার বিকেলে কিশোর গ্যাংয়ের দুপক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে মিহাদ ও জিসান। এক পর্যায়ে নিজেদের বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেয় তারা। কিন্তু সাঁতার না জানায় মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাতেই জিসানের বাবা কাজিম উদ্দিন ১৩ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ আলভী (২০), মোক্তার হোসেন (৫০), আহাম্মদ আলী (৪৮), কাশেম (২৫), আনোয়ার (৩০) ও শিপলুকে (২৩) গ্রেপ্তার করে। গতকাল মঙ্গলবার আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মিহাদের খালাতো ভাই তানভীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একটি পক্ষের ২০/২৫ সদস্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্যপক্ষকে ধাওয়া করে। এ সময় তাদের মাঝখানে পড়ে জীবন বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেয় মিহাদ ও জিসান। নিখোঁজের প্রায় ৭ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাল ফেলে নদীর সিএসডি খাল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।’
বন্দর থানার ওসি ফখরুদ্দিন ভূইয়া জানান, নিহত জিসানের বাবার মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলার এজাহারে বাদী জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর দাবি করেছেন। সার্বিক বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই সত্য উদঘাটন হবে।’
