আগামী জানুয়ারি মাসেই স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচন যেখান থেকে স্থগিত হয়েছিল, কমিশন সেখান থেকেই চসিক নির্বাচন শুরু করতে চায় বলে জানিয়েছেন চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণে শেষ মুহূর্তে এসে ২১ মার্চ চসিক নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন।
এ প্রসঙ্গে চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার কারণে শেষ মুহূর্তে এসে চসিক নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে চসিকের নির্বাচিত পঞ্চম পর্ষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৮০ দিনের জন্য নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নতুন নিযুক্ত প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হবে। সেই হিসেবে নিযুক্ত প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কমিশন নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। ইসি সচিব এসব বিষয়ে বিস্তারিত গণমাধ্যমে বলেছেন। নবনিযুক্ত প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১০ দিন আগে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হতে পারে। ভোটগ্রহণের জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। কমিশন যা সিদ্ধান্ত দেবে, তাই হবে। নির্দেশনা পেলেই আমরা আবারও নির্বাচনমূখী হব।
গত ৫ আগস্ট চসিকের নির্বাচিত পঞ্চম পর্ষদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ৪১ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিদায় নেন। আইনানুযায়ী ১৮০ দিনের জন্য নতুন প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তিনি বর্তমানে চসিকের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নবনিযুক্ত প্রশাসক আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থগিত হওয়া এই চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, কাউন্সিলর পদে ১৬৩ জন ও মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেনÑ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী (নৌকা), বিএনপি মনোনীত ডা. শাহাদাত হোসেন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন (মিনার), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল এনডিএমের চেয়ারম্যান খোকন চৌধুরী (হাতি) ও এনপিপির আবুল মনজুর (আম)।
