কম্প্রেসর রপ্তানিতে শীর্ষে যেতে চায় ওয়ালটন

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ০৮:১৫ এএম

বিশ্বের ১৫তম ও এশিয়ার অষ্টম কম্প্রেসর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়ালটন। দেশে চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শুরু থেকেই কম্প্রেসর এবং এর নানা যন্ত্রাংশ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে ওয়ালটন। এখন কম্প্রেসর রপ্তানিতে বিশে^র শীর্ষস্থান দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০ লাখ কম্প্রেসর রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন। 

গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল দেশের প্রথম কম্প্রেসর কারখানা উদ্বোধন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মাধ্যমে দেশের শিল্প-প্রযুক্তি খাতে সূচনা হয় নতুন দিগন্তের।

কারখানা চালুর পর থেকেই জার্মানির একটি কম্প্রেসর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের কাছ থেকে যন্ত্রাংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি তুরস্কে কম্প্রেসর রপ্তানি শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ইরাক, সেøাভাকিয়া, অস্ট্রিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম্প্রেসর ও এর যন্ত্রাংশ রপ্তানি হচ্ছে।  উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, রাশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোয় বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে ওয়ালটনের আন্তর্জাতিক বিপণন টিম। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্র্যান্ডের কাছ থেকে রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে ওয়ালটন। রেফ্রিজারেটর প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত একটি প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর ওয়ালটনের কাছ থেকে ২০ লাখ কম্প্রেসর কেনার আগ্রহ এরই মধ্যে প্রকাশ করেছে। ২০২১ সাল নাগাদ ওয়ালটেনের কম্প্রেসর রপ্তানি ১০ লাখে পৌঁছবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০ লাখ কম্প্রেসর রপ্তানির মাইলফলক অর্জন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কম্প্রেসর তৈরিতে জার্মানিতে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতে দেশের তরুণ ও শতাধিক প্রকৌশলীকে ইউরোপ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হয়েছে।

ওয়ালটন কম্প্রেসরের সিইও প্রকৌশলী মীর মুজাহেদীন ইসলাম বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আর দক্ষতার সমন্বয়ে আমরা বিশ্বমানের কম্প্রেসর ও এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছি। উৎপাদন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। কম্প্রেসর তৈরির পর তা ব্যবহারের আগে এর পারফরম্যান্স নিশ্চিতে বিভিন্ন টেস্ট করে থাকি। এর একটি অন-অফ টেস্ট। যার মাধ্যমে কম্প্রেসরের দীর্ঘমেয়াদে চালু থাকা অবস্থায় এর অন-অফে কোনো রকম সমস্যা যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ওয়্যার টেস্টের মাধ্যমে কম্প্রেসরে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ডিউরেবিলিটি পরীক্ষা করা হয়। ২০০০ ঘণ্টা ধরে কম্প্রেসরের ওয়্যার টেস্ট করা হয়। এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে কম্প্রেসর ব্যবহারের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়। আমরা কম্প্রেসরে ১২ বছরের গ্যারান্টি দিচ্ছি। বর্তমানে ওয়ালটন কম্প্রেসর কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ লাখ। ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা।

বেশি কার্যক্ষম, হালকা ও সাশ্রয়ী মূল্যের নতুন সিরিজের কম্প্রেসর তৈরিতে ওয়ালটনের গবেষণা ও উন্নয়ন দলটি কাজ করছে। এই কম্প্রেসর সারা বিশ্বে পারফরম্যান্সের একটি নতুন মান নির্ধারণ করবে। ২০২১ সালের শেষের দিকে সিরিজটির উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ বলেন, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কম্প্রেসর রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় ৩৫ দেশে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটন পণ্য। ওয়ালটন পণ্যের ডিজাইন, উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বিপণন নিয়ে কাজ করছেন ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা প্রকৌশলীরা। ফলে ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্য সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক টেস্টিং ল্যাব ‘এসজিএসের’ কাছ থেকে অর্জন করেছে সিই, আরওএইচএস, ইএমসিসহ নানা সনদ। এগুলো ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয়। পুঁজিবাজারেও এসেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ। এর অধীনেই কম্প্রেসর ইউনিটটি পরিচালিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত