১১
কাশ্মীর ইস্যু
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে অনেক দিন ধরেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনে (ওআইসি) এ নিয়ে দ্বন্দ্বে এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিল সৌদি আরব। পাকিস্তানকে ঋণ সহায়তা হিসেবে যে জ¦ালানি তেল সরবরাহ করত তা বাতিল করেছে সৌদি আরব। এ অবস্থায় কাশ্মীর ইস্যুতে সমর্থনের আশায় চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া।
বাজওয়ার সৌদিযাত্রার উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তবে রয়টার্স বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে কাশ্মীর ইস্যুর কথা জানিয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার রয়টার্সকে বলেন, হ্যাঁ, তিনি যাচ্ছেন, তবে এটা সেনাবাহিনী সম্পর্কিত পূর্বপরিকল্পিত সফর।
সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো। কিন্তু কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে খুব একটা সুর মেলায় না।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে চরম আকার ধারণ করেছে। এ অঞ্চলটি দুই দেশই নিজেদের বলে দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে বহুদিন ধরে কোনো আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে ওআইসি। গত বছর কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে ওআইসিতে কাশ্মীরের বিষয়টি তোলার চেষ্টায় রয়েছে ইমরান খান সরকার। এ নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করাতে চাইছে পাকিস্তান। তুরস্কের এরদোয়ান সরকারের সঙ্গে ইমরান খানের সুসম্পর্ক খুব একটা ভালো চোখে দেখছে না সৌদি প্রশাসন। সাংবাদিক খাসোগি হত্যা নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক চরম তিক্ততায় পৌঁছেছে।
এদিকে সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়ার পর ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করার অনুরোধও করেছে ইসলামাবাদ। গত মঙ্গলবার অনলাইনে এক বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব সোহেইল মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিকবিষয়ক দূতের আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হেলকে এ অনুরোধ করেন বলে জানিয়েছে ডন।
বৈঠকে মাহমুদ বলেন, ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার সুবিধার্থে পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে দখল করে রাখা জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের ধারাবাহিক সেনা অভিযান এবং পাকিস্তানের প্রতি তাদের আগ্রাসী ভঙ্গি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।’ গত বছর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা রদ করার পর থেকে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করে।
