যেখানে-সেখানে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’সংক্রান্ত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় যেখানে-সেখানে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আলাদা আলাদা ইন্ডাস্ট্রির জন্য আলাদা আলাদা অঞ্চল বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু জটিলতাও বিশ^ব্যাংকের ১০টি সূচকের ভিত্তিতে বিশে^র দেশগুলোর ব্যবসায়ের পরিবেশের সহজীকরণ প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যবসা শুরু, নির্মাণ অনুমোদন, বিদ্যুৎপ্রাপ্তি, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষা, কর পরিশোধ, সীমান্ত বাণিজ্য, চুক্তি কার্যকর ও দেউলিয়াত্ব মীমাংসা।
সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার চেষ্টায় আমাদের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকের মান ১৭৬ থেকে ১৬৮-এ উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ব্যবসা সহজীকরণ বা ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচক ডাবল ডিজিটে উন্নীত করার নিমিত্তে বিডা সব অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকের মান উন্নীত করতে পারলে আমাদের সময় ও খরচ বাঁচবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশও অনেক উন্নত হয়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, বিডার তৈরি ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের ম্যাপিংটিতে সুন্দর একটি পরিকল্পনা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি লিনিয়ার রেসপন্সিবিলিটি অর্গানাইজেশন চার্ট তৈরি করা হবে। প্রতিটি ধাপে আমাদের কাজ সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, টাইমলাইন দিয়ে কাজ শেষ করা হবে। এ লক্ষ্যে বিডা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে কাজ করবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা অতি দ্রুতই আরেকটি সভা করব, যেখানে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে আরও যারা সম্পৃক্ত তারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিশ^ব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ব্যবসা শুরুর সূচকটি পরিমাপ করা হয় ব্যবসার বাণিজ্যিক বিরোধ মেটাতে প্রয়োজনীয় সময় ও ব্যয় এবং এ-সংক্রান্ত আইনি পদ্ধতির গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে। এর প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে অগ্রসর হতে হবে। ১০টি সূচকের মধ্যে যেসব কাজ আগে করলে বেশি মার্কস পাওয়া যাবে, সে বিষয়গুলো আগে গুরুত্ব দিয়ে আগে সম্পাদন করতে হবে।’ সভায় এ বিষয়গুলো আলোচনা হয়।
সভায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
