গ্যাস-বিদ্যুতে সাফল্য এলেও সমস্যা ব্যবস্থাপনায় : ফরাস উদ্দিন

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ০৭:৪৭ এএম

বিদ্যুৎ-গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথে বাংলাদেশ সাফল্য পেলেও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জ¦ালানিবিষয়ক এক সেমিনারে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো ছিল শিল্পায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন। তার কন্যা শেখ হাসিনার কাজের মাঝেও এর পূর্ণ রিফ্লেকশন দেখা যাচ্ছে। শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাসের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য দেখালেও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।

‘যেমন ধরুন ৮-১০ বছরে বাপেক্সে যদি আটজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যায়। একজন ব্যবস্থাপক নিজের পরবর্তী কর্মক্ষেত্র নিয়ে ভাববেন নাকি এখানে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফরাস উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মাটির নিচে তেল-গ্যাস, সোনা-দানা রয়েছে এমন আশায় আশাবাদী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার পর প্রথম যে পঞ্চবার্ষিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে চারটি প্রধান বিষয় ছিল কৃষি, শিল্প, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি।

১৯৭৩ সালে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে ১৭টি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সময় এসব চুক্তি থেকে সেলামি বাবদ অর্থ পেয়েছিল বাংলাদেশ। জ¦ালানি খাতের জন্য বঙ্গবন্ধু সর্বশেষ বড় কাজটি করে গিয়েছিলেন ৫টি গ্যাসক্ষেত্র জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে।

সেদিনের স্মৃতি বর্ণনা করে বঙ্গবন্ধুর সেই সময়কার একান্ত সহকারী ফরাস উদ্দিন বলেন, ‘দিনটি ছিল শনিবার। বঙ্গবন্ধু সকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে গিয়েই বলেন, আজ দেশের ভবিষ্যতের জন্য অনেক বড় একটি কাজ করতে যাচ্ছি। বিদেশি কোম্পানি থেকে গ্যাসক্ষেত্র কিনে জাতীয়করণের এ কাজটি অতটা সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু তাদের গ্যাসক্ষেত্র অধিগ্রহণের হুমকিও দিয়েছিলেন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই আততায়ীদের হাতে তিনি সপরিবারে শাহাদাতবরণ করলেন। ওই ঘটনার সঙ্গে এই শাহাদাতের সম্পর্ক আছে কি না, আমি জানি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত