সিনহা হত্যা মামলা

৪ পুলিশসহ ৭ জন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব হেফাজতে

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ০৩:৪৯ এএম

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার সকালে র‌্যাবের একটি দল কক্সবাজার জেলা কারাগারে গিয়ে এই সাত আসামিকে নিয়ে যায়।

সাত আসামির মধ্যে চার পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া। অন্য আসামিরা সিনহা নিহতের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষী। তারা হলেন টেকনাফের মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. আইয়াস, নুরুল আমিন ও নাজিম উদ্দিন। এর আগে গত বুধবার কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এই সাত আসামিকে র‌্যাবের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিনহা হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা পুলিশের চার সদস্য ও অপর একটি মামলার (সাক্ষী) তিন আসামিসহ মোট সাতজন আসামিকে কারাগার থেকে র‌্যাব হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা রয়েছে।’

সিনহা হত্যা মামলায় এর আগে চার পুলিশ সদস্যকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছিল আদালত। সেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত বুধবার তাদের ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে মামলার তদন্তকারী র‌্যাব। শুনানি শেষে বিচারক এই চার পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। গত ৫ আগস্ট ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনকে আসামি করে সিনহার বোন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকতসহ সাত পুলিশ সদস্য।অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে এর আগে রামু ও টেকনাফ থানায় তিনটি মামলা করা হয়। এ তিনটি মামলায় আসামি করা হয়েছে সিনহার সঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেবনাথকে। চারটি মামলারই তদন্ত করছে র‌্যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত