যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দেশের মানুষ বা পরিবেশ-প্রকৃতির চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার দিকটি প্রাধান্য দেন, সেটি আরেক দফা প্রমাণিত হলো। নিজের চুলের স্টাইল ঠিক রাখতে দীর্ঘ ২৮ বছরের পানি সরবরাহ আইন বদলের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন শাওয়ারের পানির তোড় যথেষ্ট না হওয়ায় তার কেশ চর্চা বিঘিœত হচ্ছে। তার এই অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার শাওয়ারের মুখ দিয়ে কত তোড়ে পানি ছাড়া হবে তার সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে পানির চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ১৯৯২ সালের আইন অনুযায়ী শাওয়ারের মুখ দিয়ে প্রতি মিনিটে আড়াই গ্যালনের বেশি পানি ছাড়ার নিয়ম নেই।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই সীমা নির্ধারণ শাওয়ারের পূর্ণাঙ্গ মুখের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেন না থাকে। গত মাসে হোয়াইট হাউজে এই অভিযোগ আনার পর গত বুধবার সরকারের জ¦ালানি মন্ত্রণালয় এই পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে।
ওই সময় ট্রাম্প বলেন, ধরুন আপনি গোসল করতে ঢুকেছেন, কিন্তু যথেষ্ট পানি আসছে না। আপনি হাত ধোবেন, কিন্তু পানি আসছে না। আপনি কী করবেন? আপনি কি দাঁড়িয়ে থাকবেন শাওয়ারের নিচে আর দীর্ঘক্ষণ ধরে শাওয়ার করবেন? দেখুন, আমার চুলের ব্যাপারে, আমি আপনাদের কথা জানি না, কিন্তু আমার চুলের স্টাইল নিখুঁত হতে হবে।
তবে ভোক্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনগুলো বলছে, এটা অপচয় এবং অপ্রয়োজনীয়। সংরক্ষণ গোষ্ঠী অ্যাপ্লায়েন্স স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাওয়ারনেস প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু ডিলাস্কি বলেছেন, এই প্রস্তাব উদ্ভট। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের যদি আরও ভালো ও উন্নত শাওয়ারের সরঞ্জাম দরকার হয়, আমরা তাকে কিছু অনলাইন শাওয়ার দোকানের সন্ধান দিতে পারি। তারা তাকে ভালো শাওয়ারের ঝাঁঝরি মুখ দেবে, যা দিয়ে তিনি গা-মাথা ভালো করে ধুতে পারবেন।
কনজিউমার রিপোর্টস নামে আরেকটি ভোক্তা সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ফ্রিডম্যান বলছেন, তাদের তথ্য অনুযায়ী আমেরিকায় শাওয়ারের সরঞ্জাম, শাওয়ারের ঝাঁঝরি মুখ নিয়ে মানুষ খুবই সন্তুষ্ট। তারা যে পরিমাণ পানি পায় তাতেও তারা খুশি এবং পানির এই সীমা বেঁধে দেওয়ার কারণে পানির বিলে তাদের যে সাশ্রয় হয় তাতেও তারা সন্তুষ্ট। রয়টার্স বলছে, এই প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এগোলে তা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়াতে পারে।
