ম্যাচের ১০ গোলের আটটিই খেল বার্সেলোনা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ০৯:০৩ এএম

দুই অর্ধে চারটি করে গোল খেয়ে বুঁদ বার্সেলোনা। লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেসের মতো তারকা সমৃদ্ধ ক্লাবটিকে উড়িয়ে অসাধারণ নৈপুণ্যের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ।

শুক্রবার পর্তুগালের লিসবনে প্রতিযোগিতাটির কোয়ার্টার-ফাইনালে কাতালান ক্লাবটিকে ৮-২ গোলে হারায় বুন্ডেস লিগা চ্যাম্পিয়নরা। জার্মান ক্লাবটির হয়ে জোড়া গোল করেন টমাস মুলার ও ফিলিপে কৌতিনিয়ো। একটি করে গোল করেন ইভান পেরিসিচ, সের্গে জিনাব্রি, জসুয়া কিমিচ ও রবের্ত লেভানদোভস্কি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এটা বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় হার। ম্যাচটিতে কিকে সেতিয়েনের দল যে দুটি গোল পেয়েছে এর একটি বায়ার্নের আত্মঘাতী, অপরটি এসেছে লুইস সুয়ারেসের কাছ থেকে।

পুরো ম্যাচটিতে যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল বার্সেলোনা। খেলা শুরুর চতুর্থ মিনিটেই গোল খেয়ে বসে স্প্যানিশ ক্লাবটি। সতীর্থ লেভানদোভস্কির পাস থেকে ডি-বক্সের মাঝামাঝি থেকে বাঁ পায়ের শটে বায়ার্নকে এগিয়ে নেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মুলার।

প্রতিপক্ষের ভুলে তিন মিনিটের মধ্যেই অবশ্য সমতায় ফিরে বার্সেলোনা। নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বসেন বায়ার্নের অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার দাভিদ আলাবা।

দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জার্মান জায়ান্টনরা। ম্যাচের কুড়ি মিনিট পার হতেই সতীর্থ জিনাব্রির পাস থেকে বল পেয়ে দলকে এগিয়ে নেন ক্রোয়েশিয়ান উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ। ২৭তম মিনিটে লিওন গোরেটসকার রক্ষণচেরা পাসে বল পেয়ে নিজে গোল করেন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জিনাব্রি।

চার মিনিটের মধ্যে ফের জালের দেখা পান মুলার। এবার রাইট-ব্যাক জশুয়া কিমিচের ক্রস থেকে গোলটি করেন অভিজ্ঞ এই ফুটবলার। তাতে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।

বিরতি থেকে ফেরার আরও একটি গোল শোধ করে বার্সেলোনা। জর্দি আলবার পাস থেকে গোলটি করেন উরুগুয়ান স্ট্রাইকার সুয়ারেস।

ফের আক্রমণে ধার বাড়ায় বায়ার্ন। গোল করাটা যেন মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় দলটির জন্য। ৬৩ তম মিনিটে আলফোনসো দাভিসের পাসে গোলপোস্টের খুব কাছ থেকে জালে বল জড়ান রাইট-ব্যাক কিমিচ।

শেষ দশ মিনিটে আরও তিনটি গোল করে বায়ার্ন। বদলি নামা ফিলেপে কৌতিনিয়োর পাস থেকে ৮২ তম মিনিটে গোল করেন তারকা খেলোয়াড় লেভানদোভস্কি।

এরপর চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন এক বছর আগে বার্সেলোনা থেকে বায়ার্নে লোনে আসা ব্রাজিলিয়ান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় কৌতিনিয়ো। তার প্রথম গোলটিতে অবদান রাখেন টমাস মুলার ও পরের গোলটিতে অবদান রাখেন লুকাস হার্নান্দেস।

বায়ার্নের অবিশ্বাস্য আক্রমণের সামনে বার্সেলোনার অবস্থা যেন- ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই যেন হাফ ছাড়ে দলটি। বিশাল জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন; পক্ষান্তরে লজ্জায় মুখ লুকাচ্ছিল বার্সেলোনা।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ হবে ম্যানচেস্টার সিটি ও অলিম্পিক লিঁও মধ্যকার জয়ী দল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত