এসিআই মোটরসে ডাচ ব্যাংকের ১২৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২০, ০১:৩২ এএম

এসিআই লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি এসিআই মোটরসে বিনিয়োগ করছে নেদারল্যান্ডসের বিনিয়োগ ব্যাংক এফএমও। বিনিয়োগের পরিমাণ দেড় কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৬ কোটি টাকা। এ অর্থ বিনিয়োগে দেশের কৃষি যন্ত্রপাতি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এসিআই মোটরসের প্রায় ১৭ শতাংশের শেয়ারের মালিকানা পাবে এফএমও। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করে এসিআই।

গত বৃহস্পতিবার এসিআই লিমিডেটের পরিচালনা পর্ষদ এফএমওর এই বিনিয়োগের অনুমোদন দেয়। হস্তান্তরযোগ্য নয় এমন প্রতিটি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারে এসিআই লিমিটেড প্রিমিয়াম নিয়েছে ৪৪০ টাকা। এক্ষেত্রে এসিআই মোটরসের প্রতিটি শেয়ার ৫৪০ টাকায় কিনছে ডাচ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এফএমও। এই অর্থ ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও উৎপাদন ক্ষমতার সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে বলে এসিআই জানিয়েছে।

এফএমওকে অংশীদার হিসেবে নেওয়ার পর এসিআই মোটরসে এসিআই লিমিডেটের শেয়ার থাকবে ৫২ দশমিক ৭০ শতাংশ, যা আগে ৬৫ শতাংশ ছিল। এসিআই মোটরসে এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম আনিস উদ দৌলা, এসিআই ফর্মুলেশনস ও এফ এইচ আনসারির মালিকানা রয়েছে। এফএমও অংশীদার হওয়ার পর এসিআই মোটরসের পরিচালনা পর্ষদে তাদের একজন প্রতিনিধি যোগ দেবেন।

এসিআই মোটরস ২০১৯-২০ অর্থবছরে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ৯৫৪ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। এতে কোম্পানিটির করপূর্ববর্তী মুনাফা ছিল ৯৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এসিআই মোটরসের ১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে কোম্পানিটি। এ সময়ে এসিআই মোটরসের নিট মুনাফা হয় ৭৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

এসিআই মোটরস জাপানের ইয়ানমারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কৃষি যন্ত্রপাতির আমদানি করে। তাদের নিজস্ব কৃষিযন্ত্রের কারখানাও রয়েছে। এ ছাড়া জাপানের ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের কারখানা করেছে তারা। বাণিজ্যিক যান ও নির্মাণ সরঞ্জামের ব্যবসাও রয়েছে তাদের।

আর এসিআই লিমিটেড ২০১৯-২০ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক, অর্থাৎ গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে প্রায় ১ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে লোকসান হয়েছে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার মতো। তবে লোকসানের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

এসিআইর সাবসিডিয়ারিগুলোর মধ্যে নিট মুনাফায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এসিআই মোটরস। এই কোম্পানির সবচেয়ে বেশি মুনাফা আসে ফার্মাসিউটিক্যালস খাত থেকে। বেশিরভাগ সাবসিডিয়ারি লোকসানে থাকায় মূল কোম্পানি এসিআই লিমিটেডও লোকসানে পড়েছে। রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ ও বিদেশে ওষুধ রপ্তানির জন্য প্রতিষ্ঠিত হেলথকেয়ারে বড় অঙ্কের লোকসানের কারণে এসিআই লিমিটেড ২০১৯-২০ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ১১৯ কোটি টাকা নিট লোকসানে পড়েছে। আগের বছরও কোম্পানিটির ৬৫ কোটি টাকার নিট লোকসান হয়েছিল। এসিআইর নিট লোকসানের একটি বড় কারণ হচ্ছে ব্যাংক ঋণ। সাবসিডিয়ারির জন্য নেওয়া এই ঋণের সুদ গুনতে গিয়েই গত দুই বছর ধরে লোকসানে রয়েছে এসিআই লিমিটেড। 

অবশ্য লোকসানে থাকলেও গত কিছুদিন ধরে এসিআইর শেয়ারের দর বাড়ছে। গত এক মাসে ডিএসইতে এসিআইর শেয়ার দর ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গতকাল তা ২৮৪ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত