প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার ‘পাকা বসতঘর’ বুঝে পেয়েছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধিগাঁও গ্রামের সেই ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন (৮০)। গতকাল রবিবার তার হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনার কলি মাহবুব।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নাজিম উদ্দিনের চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করা হবে।’
ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দুই বছরে ঘর মেরামতের জন্য ১০ হাজার টাকা জমান নিজাম উদ্দিন। করোনা পরিস্থিতিতে গত এপ্রিলে স্থানীয় ইউএনওর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সেই টাকা দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি পাকা ঘর করে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধা পাকা বসতঘর নির্মাণ করা হয়। এতে তিনটি থাকার ঘর রয়েছে। এ ছাড়া বাইরে আধা পাকা একটি রান্নাঘর ও শৌচাগার করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল তিনি স্ত্রী ও ছয় ছেলেমেয়েকে নিয়ে নতুন ঘরে ওঠেন।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আপ্লুত নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমারে বাড়ি কইরে দিছে, ম্যালা খুশি হইছি। আমি দোয়া করি, আল্লাহ যেন তারে নেক হায়াত দান করে, আরও মাইনষের উপকার করার দিল দেয়। আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা, একবার শেখের বেটিরে সামনাসামনি দেহি এবং পায়ে ধইরে সেলাম করতে চাই। আল্লাহ যেন আমার শেষ ইচ্ছাডা পূরণ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি সাব আমারে একটা দোহান বানাইয়া দিছে এবং মাল তুলার লাইগা ২০ হাজার টেহা দিছে। আমগো উপজেলা চেয়ারম্যান নাঈম ভাই একটা অটোরিকশা কিন্না দিছে। সবাইরে আল্লাহ ভালা রাহুক।’
এদিকে নাজিম উদ্দিনের উদারতায় খুশি হয়ে তার নামে স্থানীয় একটি বাজারের নামকরণ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, ‘নাজিম চাচার কারণে দুনিয়ার মানুষ আমগো এলাকারে চিনছে। তাই আমাগো বাজারের নাম চাচার নামে করছি।’
এ ছাড়া ব্যক্তিগত অর্থায়নে নাজিম উদ্দিনকে একটি ইজিবাইক কিনে দিয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম এ ওয়ারেজ নাঈম। তিনি বলেন, ‘নাজিমের মতো উদার মানুষের জন্য আমরা গর্বিত। তার যাতে আর ভিক্ষা করা না লাগে, সে জন্য ইজিবাইক কিনে দিয়েছি।’
