কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড তৈরির পরের মাসে রেমিট্যান্সে কিছুটা নিম্নমুখী ধারা দেখা দিয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৮৬ কোটি মার্কিন ডলার। এতে করে পুরো মাসে রেমিট্যান্স ২০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে। আগের মাস জুলাইতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৬০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল।
প্রবাসী আয়ে সরকার ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার পর থেকে গত তিন মাস ধরে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ছে। আবার করোনা সংকটের কারণে অবৈধ হুন্ডিও বন্ধ রয়েছে। ফলে বিশ^ব্যাপী করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও গত মে মাস থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন দেখা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাইতে রেকর্ড রেমিট্যান্স আসে। তবে ঈদের পরের মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ কিছুটা কমলেও তা জুন মাসের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি জুনে দেশে রেমিট্যান্স আসে ১৮৩ কোটি ডলার। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জুন মাসের রেমিট্যান্স রেকর্ড তৈরি হলেও পরের মাসেই নতুন রেকর্ড হয়। তবে চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৩ দিন পর্যন্ত রেমিট্যান্সের যে প্রবাহ, তা মাস শেষে জুনের চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেমনটি হলে জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আয়ের মাস হবে আগস্ট। তবে করোনার কারণে আগামীতে কিছু শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
রেমিট্যান্স আয়ের সবচেয়ে বড় অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা অস্থিতিশীলতা চলছে। জ¦ালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশিদের আয়ের উৎস সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছেন। এতে করে রেমিট্যান্সের চলমান প্রবাহে নিম্নমুখী ধারার শঙ্কা রয়েছে। তবে প্রবাসী আয়ে সরকারের দুই শতাংশ নগদ প্রণোদনা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসীরা। জুন থেকে প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফনের এটিই প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৮৬ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৭ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ৫১ শতাংশ প্রবাসী আয় এসেছে। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ২৯ কোটি ২১ লাখ ডলার এসেছে। আর ৪০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৫৫ কোটি ২১ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় আসে।
চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে চলতি বছরের জুনে একক মাসে ১৮৩ কোটি ডলারের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ করে বাংলাদেশ। তারও আগে এক মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল গত বছর মে মাসে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। এটিও বছর হিসাবে রেকর্ড। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব থেকে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ দেশ থেকে মোট ৪০১ কোটি ৫১ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৪৭ কোটি ডলার। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ সময়ে রেমিট্যান্স আসে ২৪০ কোটি ডলার। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আরব আমিরাতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র।
