তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের জন্য জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল করা যাচ্ছে না। গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’স লেক এলাকার বেসরকারি ইম্পিরিয়াল হাসপাতালে ‘কভিড কেবিন ব্লক’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। হাছান মাহমুদ বলেন, ২০০৫ সালের এদিনে (১৭ আগস্ট) দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে ৫০০-এর বেশি জায়গায় বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত সরকার তখন ক্ষমতায় ছিল। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জঙ্গিরা শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছিল, জঙ্গিরা শক্তিশালী হয়েছিল। জঙ্গিরা সেই শক্তি প্রদর্শন করার লক্ষ্যেই একযোগে ওই বোমা হামলা চালিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গি দমনে অনেক দেশের চেয়ে বেশি সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আমরা জঙ্গি নির্মূল করতে পেরেছি, সেই দাবি আমরা করব না। তবে জঙ্গি দমন করা সম্ভবপর হয়েছে। জঙ্গি নির্মূল করাও সম্ভব হতো যদি বিএনপি-জামায়াত তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিত। যারা ৫০০ জায়গায় একযোগে যারা বোমা হামলা চালিয়েছিল, তাদের দোসররা বিএনপির জোটের মধ্যে আছে।’ রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না থাকলে জঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব হতো বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যতটুকু সম্ভব করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। সেটিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। শুরুতে যেভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল, করোনায় হাজার হাজার মানুষ মারা যাবে, রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে, হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যাবে না। আল্লাহর রহমতে সেই পরিস্থিতি হয়নি।’ চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর জন্য যে পরিমাণ শয্যা আছে, তার অর্ধেকের বেশি খালি আছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরেও একই অবস্থা। করোনায় আমাদের মৃত্যুর হার ইউরোপের চেয়ে তো বটেই, এমনকি ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও কম রাখতে সক্ষম হয়েছি।
অনেক দেশ দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের শিকার হচ্ছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, নিউজিল্যান্ডে করোনাশূন্য হয়ে যাওয়ার পর আবার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। চীনের উহান ও পেইচিংয়ে করোনাশূন্য হওয়ার পর আবার দেখা দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন, বোর্ড সদস্য ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
