করোনাযুদ্ধে আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের তিন আবিষ্কার

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২০, ১১:৩২ পিএম

নভেল করোনাভাইরাসের কবল থেকে মুক্তি পেতে দিশেহারা পৃথিবী। দেশে দেশে এ মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো চলমান। এ যুদ্ধে রোগী ও চিকিৎসকদের প্রাণ বাঁচাতে তিনটি আবিষ্কার ও আবিষ্কারকদের গল্প লিখেছেন ওমর শাহেদ

সেনেগালের শিক্ষার্থীদের ‘ডাক্তার কার’

দরিদ্র দেশ সেনেগালে কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেনেগালের রাজধানী ডাকারে দেশটির অন্যতম প্রধান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডাকার পলিটেকনিক্যাল স্কুল’। দেশটির রাষ্ট্রীয় ফরাসি ভাষায় স্কুলটিকে বলা হয়, ‘দে ইথুজঁ দ্যু ইকলে সুপারিহ পলিতেকনিক দ্যু দাকা’। শুধু সেনেগাল নয়, এটি পশ্চিম আফ্রিকারও অন্যতম সেরা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ মহাদেশের ২৮টি দেশ থেকে সবচেয়ে মেধাবী চার হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়ার সুযোগ পান। এসব মেধাবী তাদের প্রযুক্তি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ‘কভিড-১৯’ রোগে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালগুলোর ওয়ার্ডের চাপ কমাতে সাহায্য করেছেন। ইতিমধ্যেই তাদের কয়েকটি উদ্ভাবন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব উদ্ভাবনের একটি হলো ছোট্ট রোবট। তারা এ রোবটের নাম দিয়েছেন ‘ডাক্তার কার’।

রোগীদের রক্তচাপ ও শরীরে জ¦র আছে কি না তা পরিমাপ করতে পারে ডাক্তার কার। এ রোবট যাদের চিন্তার ফসল, সেই দলের অন্যতম ২৩ বছরের লামিন মুহামেদ কেবে। তিনি বলেন, ‘রোগটি ছড়িয়ে যাওয়ার পর আমরা অনুভব করেছিলাম, এ দেশের চিকিৎসা উপকরণ অনেক কম। সেজন্য আমরা কিছু করতে পারি। ফলে তৈরি হলো রোবট। এটি চিকিৎসক ও নার্সদের কাজে সাহায্য করে আক্রান্ত রোগীদের মাধ্যমে তাদের সংক্রমণ হার ও সেনেগালের ব্যয়বহুল পিপিই প্রতিরক্ষা উপকরণ ব্যবহার কমাবে। ডাক্তার কার রোবট একটি অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। রোবটটি নিজে থেকে তো বটেই, চিকিৎসকরাও প্রয়োজনে এর সাহায্য নিয়ে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। রোগীদের তাপমাত্রা ও রক্তচাপও নিতে পারেন।’

কেবে জানান, চিকিৎসকরা চাইলে প্রত্যন্ত যেসব গ্রামে পৌঁছানো কঠিন, সেখানকার রোগীদের কাছেও এ রোবট পাঠিয়ে চিকিৎসা দিতে পারেন। সেনেগালে করোনাভাইরাস শুরুতে ধীরে ধীরে আক্রমণ করেছে। তবে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের দেশটিতে এখন নিশ্চিতভাবে ভাইরাসবাহিত ‘কভিড-১৯’ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য গরিব দেশের মতো সেনেগালেরও এ মহামারীকে মোকাবিলা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। দুর্বল প্রযুক্তি সুবিধা নিয়ে তাদের ভয় ছিল। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে কভিড-১৯ রোগে ভুগে মারা গেছে অন্তত ২৫৩ জন। আক্রান্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৬২ জন। দেশটির ১৯টি হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি। এমনকি রাজধানীর হাসপাতালের কর্মকর্তারাও আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন।

নিজেদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার হার বাড়তে থাকায় রোগটির বিপক্ষে যুদ্ধ করা সেনেগালের সামনের সারির চিকিৎসকরা ডাকার পলিটেকনিক্যাল স্কুলের নবীন প্রকৌশলীদের সঙ্গে তাদের সবার জীবন বাঁচাতে গভীরভাবে আলোচনা শুরু করেন। নামকরা এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এরপর শুরুতে একটি মোবাইল ট্রলির নকশা করে দেন। এ ট্রলির সাহায্যে চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও খাবার রোগীদের কাছে নিতে পারেন। তবে ডাকার হাসপাতালের একটি জরুরি ওয়ার্ডের প্রধান আবদুলাই বুসসু মেডিকেল টেস্টগুলো করার উপযোগী একটি মেডিকেল হাতসহ এটিকে আবার নকশা করে দিতে অনুরোধ করেন। এরপর তাদের ওপরের ক্লাসের একদল ছাত্রছাত্রী সেটির ওপর কাজ করতে শুরু করেন। বুসসু বলেন, ‘এটি একটি চিকিৎসার পূর্ণ প্রক্রিয়া হবে। যাতে ব্যয়বহুল পরীক্ষাগুলো পরিচালনার খরচ ও গাউনগুলো (পিপিই) পরার খরচ কমানো যায়। দেশের অবস্থা বিবেচনায় এগুলোকে অবশ্যই বাদ দিতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন অধ্যাপক অ্যান্ডিয়াগো অ্যান্ডাই তাদের উদ্ভাবনগুলোর বিপণনের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হাতে-কলমে দীর্ঘদিন কাজ করতে পারবে এমন প্রকল্প ও উদ্যোগগুলোর ওপর জোর দিয়েছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। তার মানে ভাইরাসটি যখন মরে যাবে বা দূর করা সম্ভব হবে শিক্ষার্থীরা তখন তাদের উদ্ভাবনগুলো বিক্রি করতে পারবেন। একসময় এটি অনেক বেশি সংখ্যায় তৈরি করার মতো করে বানিয়েছি আমরা।’

শিক্ষার্থীদের সেরা আবিষ্কার ‘ডাক্তার কার’ এমন একটি রোবট যেটিতে ক্যামেরা আছে, দূর থেকে একটি মোবাইল অ্যাপলিকেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটির নকশাকার ও নির্মাতারা বলেছেন, এ রোবট রোগীতে ভর্তি ঘরগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের শরীরের তাপমাত্রা জানতে ও তাদের ওষুধ এবং খাবার দিতে পারবে। রোবটটি নিয়ে অধ্যাপক অ্যান্ডিয়াগো খুব আশাবাদী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছোট একটি যন্ত্রের চেয়েও অনেক বেশি কিছু রোবটটি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের কর্মকান্ড নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে যেকোনো একটি ধারণা সবাই মিলে উন্নত করি। এভাবেই সমাজকে আমাদের সেবা দিই।’

সেনেগালে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রযুক্তিগুলো সাহায্য করবে এমন আশা থেকে অন্যান্য শিক্ষার্থীও কাছাকাছি প্রযুক্তি পণ্য তৈরি করতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ইই) বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী টিয়ানা আনচাম্বেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদানের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ডিসপেনসার তৈরি করেছেন। বলেছেন, তার এ ডিসপেনসার বিদ্যালয়গুলোতে কর্মী কমাবে, পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে হাত ধোয়া দেখভালের জন্য তত্ত্বাবধানও করবে।

কীভাবে বানিয়েছেন? এ প্রশ্নের জবাবে ২৬ বছরের ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটি আমাদের মৌলিক কাজের অংশ বলে খুবই স্বাভাবিকভাবে বানিয়েছি। আমরা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলীদের সামনের বাধাগুলোর মোকাবিলা করতে হয় ও উদ্ভাবনের গন্তব্য নিজেদের হাতেই তুলে নিতে হয়।’

স্টিভেনের হাত ধোয়ার কাঠের মেশিন

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে একটি যন্ত্র তৈরি করেছে মাত্র নয় বছর বয়সের এক কেনিয়ান বালক। সেটি হাত ধোয়ার কাঠের মেশিন। এ আবিষ্কারের জন্য তাকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা। এখন পর্যন্ত এ পদক পাওয়া ৬৮ জনের মধ্যে ওই বালকই সবচেয়ে কমবয়সী। থাকে দেশের পশ্চিমের বাঙ্গোমা কাউন্টিতে, নাম স্টিভেন ওয়ামাকোটা। তার বানানো মেশিনটি আধা-স্বয়ংক্রিয়।

১৭ আগস্টের হিসাবে কেনিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪৭৪ জন রোগী মারা গেছে। আর এতে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে অন্তত ৩০ হাজার ১২০ জন। স্টিভেনের বাবা জেমস বলেন, ‘স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কীভাবে এ রোগের হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতে নিরাপদে থাকতে হয় জানার পর স্টিভেন অভিনব যন্ত্রটি তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যখন প্রথমবারের মতো আমাদের দেশে রোগের সংক্রমণের কথা জাতির সামনে বললেন, তখন বলা হয়েছিল ভাইরাসটি থেকে বাঁচতে সবাইকে নিয়মিত হাত ধুতে হবে। আমার ছেলে তখন বলল, সে একটি যন্ত্র তৈরি করবে যেটি মানুষের এ কাজকে সহজ করবে।’

এরপর স্টিভেন কাজে নেমে পড়ে। একা একাই কাঠ সংগ্রহ করে। এছাড়াও কাজের প্রয়োজনে বড় পেরেক ও ছোট একটি পানির ট্যাংকিও সংগ্রহ করে। এরপরই বাবাকে তাজ্জব বানিয়ে দেয় ছোট্ট স্টিভেন। তার বাবা জেমসের কাজ হলো নানা জায়গায় ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র সারিয়ে তোলা। এক দিন বাড়িতে ফিরে অবাক হয়ে গেলেন ছেলের সৃজনশীলতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রবল কর্মটি দেখে। বাতিল যে কাঠগুলোকে তিনি একটি জানালা বানানোর জন্য রেখেছিলেন, সেগুলো দিয়েই মেশিন বানিয়ে ফেলেছে তার ছেলে। বাবার কাছ থেকে সৃজনশীলতাটি নিজের মধ্যে নিয়েছে বলে তিনি আরও খুশি। তবে সেই মেশিনটি ভালোভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। তাই সেখানে কিছু সংযোজন, বিয়োজন করে দিলেন তিনি ও স্টিভেন মিলে। আসলে ছেলের কাজে এতই খুশি হয়েছিলেন, মেশিনটি পড়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হোক তা তিনি চাননি।

পায়ে চালানোর দুটি প্যাডেল আছে স্টিভেনের হাত ধোয়ার মেশিনে। একটিতে চাপ দিলে সাবান, অন্যটিতে চাপ দিলে পানি বেরিয়ে আসে। হাতের কোনো কাজ নেই বলে খুব ভালোভাবে হাত ধোয়া যায়। এ মেশিনের সবকিছুই কাঠের। একটির সঙ্গে আরেকটির জোড়া লাগানো। কাঠের জোড়া প্যাডেলগুলোর একেকটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত দুই ফুট। ওপরে বসানো ট্যাংকি। সেখান থেকে প্লাস্টিকের নলে পানি পড়ে সামনের গামলাতে। সেটিও সংযুক্ত। সাবানের বদলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখাও যায় এখানে। হাত লাগাতে হয় না যন্ত্রটির কোথাও। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে হাতকে সহজেই সুরক্ষিত রাখা যায়। গর্বিত বাবা জানালেন, তার ছেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম থেকে ধারণাটি তৈরি করেছে। সেজন্য তার শিক্ষকদের ধন্যবাদও জানালেন। এও জানালেন, কীভাবে নানা কিছু জোড়া লাগিয়ে বানাতে হয় শিখিয়েছেন শিক্ষকরা। ছেলে এভাবে নতুন একটি আবিষ্কার করে ফেলেছে বলে ভীষণ খুশি বাবা।

স্টিভেনের কাউন্টির গভর্নর উইকলিফ ওয়াঙ্গামাটি তাকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের লেখাপড়া শেষ করার জন্য বৃত্তি দিয়েছেন। তবে বাবা বলেন, বৃত্তির বিস্তারিত চেষ্টা করেও জানতে পারেননি। কারণ কেনিয়ার বিদ্যালয়গুলো এ মহামারী রোগের কারণে আজও বন্ধ আছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয় খোলার জন্য অপেক্ষা করছি। যাতে স্টিভেনকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে জানতে পারি। তবে গভর্নর আমাকে তখন বলেছিলেন, যখনই বিদ্যালয় খুলে যাবে, তাকে এমন একটি বিদ্যালয়ে ভর্তিরও ব্যবস্থা করা হবে যেটি তার মেধার উপযোগী হবে।’

বড় হয়ে এ খুদে প্রকৌশলী সত্যিকারের প্রকৌশলী হবে। বাবার আশা, প্রেসিডেন্টের সম্মাননা তার ছেলেকে দেশে একজন বিরাট মানের মানুষ হওয়ার দুয়ার খুলে দেবে। জেমস বলেন, ‘স্টিভেন সবসময়ই বলে কলকারখানা তৈরি করতে চায়। আমি আশা করি সে পারবে। তারপর এক দিন অনেক বড় মানুষ হবে।’

উসমানের ভেন্টিলেটর

আফ্রিকার সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ নাইজেরিয়াতে ১৭ আগস্টের হিসাবে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অন্তত ৯৭৫ জন। আর রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার ৬৮ জন। তবে অনেক মানুষের এই দেশে ৩৬টি প্রদেশে, এমনকি তাদের রাজধানী আবুজা মিলিয়েও ৫০০-এর বেশি ভেন্টিলেটর নেই। যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ফুসফুস নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে পারে না, তখন এ মেডিকেল প্রযুক্তিটি রোগীকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করে বাঁচিয়ে রাখে। ফলে মানুষকে বাঁচানোর স্বার্থে এটি তৈরি খুবই প্রয়োজন।

নাইজেরিয়ার সংকটই একজন ‘জিনিয়াস উদ্ভাবক’ উসমান ডালহাটুকে ঠেলে দিল ভেন্টিলেটর বানানোর দিকে। তিনি দেশের উত্তরের আহমাদু বেলো ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেভেল ‘২০০’র ছাত্র। তার দেশের অন্য উদ্ভাবকের সঙ্গে মিলে ২০ বছরের এ তরুণ শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন একটি স্থানীয় প্রযুক্তিতে বানানো ভেন্টিলেটর। এটি তিনি রূপান্তর করেছেন বহনযোগ্য ব্যতিক্রমী খুব আধুনিক ‘ই-ভেন্ট অটোমেটিক ভেন্টিলেটর’-এ। নিজের এ আবিষ্কারের নামটি তিনি রেখেছেন রিসপায়ার-১৯। রিসপায়ারের বাংলা শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞান সংশ্লিষ্টদের আনুমানিক হিসাবে কভিড-১৯ রোগের ৬ শতাংশকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি হতে হয়। আর ৪ শতাংশকে শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটর দিতে হয়। উসমানের সঙ্গে আবিষ্কারে ছিলেন দেশের হিউম্যান অ্যানাটমি একাডেমির ডা. ইউনসা মোহামেদ গারবা, গোম্বে স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং মেকাটনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী আলিইউ হাসান। তারা তাদের আবিষ্কারটি নাইজেরিয়ার গোম্বে প্রদেশের গভর্নর মোহামেদ এনুওয়া ইয়াহাইয়াকে উপহার দিয়েছেন। আর প্রধান নির্মাতা বলেছেন, আমি একই সঙ্গে একটি রান্নার জন্য একটি ইলেকট্রনিক চুলা তৈরি করেছি। এখন অনেক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। তবে সরকারের কাছে আমার পণ্যগুলোকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানিয়েছি এবং অন্যভাবেও আমাকে সাহায্য করার অনুরোধ করেছি। আর ইমসন রিসার্চ গ্রুপের বায়ো-ফুয়েল ইঞ্জিনস বিভাগের প্রধান ড. কাইসান মোহামেদ উসমান বলেছেন তার আবিষ্কারটির সব উপকরণই স্থানীয়। বলেছেন, ‘এ আবিষ্কার খুব ভালোভাবে কভিড-১৯ রোগের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে সাহায্য করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত