করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে যেমন লকডাউন ছিল তেমনি রাজনীতিও ছিল লকডাউনে বন্দি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এর বাইরে ছিল না। ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল প্রায় সবাই করোনা নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা ও দলগুলোর নিয়মিত কর্মকা- ও প্রেস কনফারেন্স সবই ডিজিটাল/ভার্চুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে করা হয়। সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিও চলে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। সরকারি দল আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানগুলোও সেরে নেওয়া হয় ডিজিটাল প্রযুক্তিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতি সারা দেশে মনিটরিং করেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে। সরকারপ্রধান তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার সংসদ ভবনের বাসভবন থেকে দলীয় ও সরকারি সব কাজ ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করেন। গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার বৈঠক, একনেক সভাসহ সরকারি সব দাপ্তরিক কাজ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন একই পদ্ধতিতে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে করেছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে গণভবনে যাননি কেন্দ্রীয় কোনো নেতা। জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভাও করা হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। আওয়ামী লীগ সভাপতি গণভবন প্রান্ত থেকে সব অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন ভিডিও কনফারেন্সে। তবে করোনাভাইরাস আতঙ্ক অনেকখানি কমে এলেও ভার্চুয়াল জগৎ থেকে রাজনীতি বের করে আনার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই আওয়ামী লীগের।
দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্ক এখন কমে এসেছে ঠিকই তবুও ঘোষণা দিয়ে রাজনীতি মাঠে ময়দানে আনার সময় এখনো আসেনি। আরও কয়টা মাস ডিজিটাল/ভার্চুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালিত হবে। করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগে ঘোষণা দিয়ে মাঠে-ঘাটে রাজনৈতিক কর্মকা- শুরু করার কোনো পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের নেই। গণমানুষের দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তা করতে পারে না। আর কিছুদিন রাজনৈতিক কর্মকা- চলবে ঘরের ভেতরই এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সারা বিশে^ এখন এর ভয়াবহতা চলছে। ফলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই নিয়মিত কাজকর্ম করা উচিত। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকান্ডও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং ভার্চুয়াল পদ্ধতির ভেতরেই থাকবে। যেভাবে ভার্চুয়ালি চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেভাবেই আরও কয়েকটা মাস কাটবে কারণ আমরা কেউ ঝুঁকিমুক্ত নই এখনো। তিনি বলেন, জনজীবনসহ প্রায় সবকিছুই স্থবির। এর মধ্যে রাজনীতি মুখ্য নয়। তাছাড়া রাজনীতি তো মানুষের প্রয়োজনেই।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, রাজনীতি তো চলছেই। তিনি বলেন, ভার্চুয়ালি রাজনৈতিক কর্মকা- ঠিকঠাকই চলছে। এখনো মাঠে-ঘাটে রাজনৈতিক কর্মকা- চালানোর সময় আসেনি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে এলে রাজনৈতিক কর্মকান্ড আরও সচল হবে।
দলের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে রাজনৈতিক কর্মকা- চলার যে পদ্ধতি শুরু হয়েছে সেটা বিভিন্ন দলের কাছে অনেকখানি জনপ্রিয় পদ্ধতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী স্বাভাবিক হলেও ভার্চুয়াল পদ্ধতি একেবারেই উঠে যাবে না। এটি আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতার কাছে গ্রহণযোগ্য ও ঝামেলামুক্ত একটি পদ্ধতি হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে মাঠে-ঘাটে যেমন চলবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড তেমনি ভার্চুয়াল পদ্ধতিও অনুসরণ করা হবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডএ।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ পদ্ধতিকে টেকসই বলে মনে করেন। অবশ্য এ দেশের মানুষকে ডিজিটাল পদ্ধতির স্বপ্ন দেখায় আওয়ামী লীগই। সে হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারীর আগেও রাজনৈতিক ও সরকারি বেশকিছু কর্মকান্ড শেখ হাসিনা ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণ করেন। এগুলো সুফলও আসে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে ভার্চুয়াল পদ্ধতির ওপর।
