টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের এসপি আবদুর রহিম শাহ চৌধুরীর বাসা থেকে টাকা চুরির অভিযোগে ফরিদ মিয়া নামে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে থানায় তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত রবিবার পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মির্জাপুর থানার এসআই আবুল বাশার মোল্লার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া এসপি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফরিদ মিয়ার অভিযোগ, গত ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় এসপির বাসায় কাজ শুরু করেন তিনি। দুপুর ১টার দিকে কাজ শেষ হলে চলে যান। বিকেল ৪টার দিকে ফোন করে এসপি বাংলোয় ডেকে নেন এবং বাসা থেকে ১ লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার দোষ তার ওপর দেন। অভিযোগ অস্বীকার করলে ফরিদকে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মির্জাপুর থানায় খবর দিলে এসআই আবুল বাশার মোল্লা বাংলোতে এসে তাকে জেরা ও মারধর করেন। পরে থানায় নিয়ে চোখ এবং হাত বেঁধে ঝুলিয়ে তিন দিন লাঠিপেটা করেন আবুল বাশার। টাকা না দিলে জানে মেরে ফেলা ও মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে ফরিদ আত্মীয়-স্বজনদের বললে তারা ধারদেনা করে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় আসেন। এরপর ১৫ মার্চ বিকেলে এসপির বাসায় গিয়ে টাকাগুলো দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে নির্যাতনের বিষয়ে ফরিদ মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও নেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু বিচারের আশায় বিভিন্ন জায়গায় ধরনা শেষে গত ১৮ জুলাই ঢাকার সেগুনবাগিচায় ক্র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার এসআই আবুল বাশার মোল্লার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি আবুল বাশার নন বলে কেটে দেন। এসপি আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাসা থেকে ১ লাখ টাকা চুরির ঘটনা মির্জাপুর থানাকে জানাই। পুলিশ পরিচ্ছন্নতা কর্মী ফরিদকে আটক করলে চুরির কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে আংশিক টাকা দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চাকরি থেকে ইস্তফা নেন ফরিদ।’
মির্জাপুর থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ফরিদ মিয়া থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দেন। এরপর এসআই আবুল বাশার মোল্লার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং এসপির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।’
