স্বপ্নের প্রথম ফাইনালে পিএসজি

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ১২:৩২ এএম

কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের দীর্ঘ চেষ্টা অবশেষে সফলতা পেল। ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) নিয়ে তাদের প্যারিস প্রজেক্ট আলোর মুখ দেখল ৯ বছর পর।

ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে পিএসজি ক্লাবকে কিনেছিলেন ধনকুবের নাসের আল খেলাইফি। এই ৯ বছরে ক্লাবের পেছনে জলের মতো টাকা ঢেলেছেন। নেইমারের মতো বিরাট তারকাকে রেকর্ড টাকায় বার্সেলোনা থেকে ছিনিয়ে আনতেও পিছপা হননি। কিন্তু একের পর এক চ্যাম্পিয়নস লিগ হতাশা শেষে এবার সুসময়ের মুখ দেখল তাদের মোটা অঙ্কের ব্যয়। নেইমার-এমবাপে-ডি মারিয়াদের কাঁধে চড়ে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল পিএসজি। মঙ্গলবার জার্মানির আরবি লাইপজিগকে ৩-০ গোলে অনায়াসে হারিয়ে এ সাফল্য দেখাল ক্লাবটি। ১৯৭০ এ পথচলা শুরু করা পিএসজি এ বছর তাদের ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। এই বছরেই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখার দারুণ সুযোগ এখন তাদের সামনে।

পর্তুগালের লিসবনে ম্যাচের প্রথমার্ধে মার্কুইনহোস ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার গোলে এগিয়ে থাকে পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধে হুয়ান বার্নাতের গোলে সহজ জয় নিশ্চিত করে। আতালান্তার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ মুহূর্তের গোলে জিততে হয়েছিল পিএসজিকে। কিন্তু সেমিফাইনালে এত দেরি করেনি দলটি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা ডি মারিয়ার উদ্ভাসিত পারফরম্যান্স আর নেইমারের নিজের রূপে এগিয়ে চলা পিএসজিকে সহজ জয় এনে দিয়েছে। ম্যাচে দুই গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন ডি মারিয়া, একটি গোল নিজে করেছেন। ৪২ মিনিটে ডি মারিয়ার গোলের উৎস নেইমার। ১৩ মিনিটে মার্কুইনহোসকে উড়ন্ত পাসে হেড থেকে গোলে সুযোগ করে দেন আর্জেন্টিনা তারকা। আর ৫৬ মিনিটে বার্নাতকে দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করতে সাহায্য করেন। এর বাইরে আরও একটি গোল পেতেন ডি মারিয়া। আচমকা নেওয়া তার সেই ফ্রি কিক লাইপজিগের বারে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া নেইমারের একটি শটও বারে লেগে ফিরে।

প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পৌঁছতে পিএসজিকে মোট ১১০ ম্যাচ খেলতে হলো। এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা কোনো দলের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে শিরোপা লড়াইয়ে আসার রেকর্ড। এর আগে আর্সেনাল ১৯৭১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত মোট ৯০ ম্যাচ খেলার পর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে উঠেছিল। এছাড়া ইউরোপিয়ান মঞ্চে এটি পিএসজির দ্বিতীয় ফাইনাল। এর আগে ১৯৯৬ সালে উয়েফা কাপ উইনার্স কাপের ফাইনাল খেলে শিরোপা জিতেছিল পিএসজি।

অসাধারণ একটি ম্যাচ শেষ করা ডি মারিয়ার ফাইনালে ওঠার আনন্দে মঙ্গলবার রাতে ঘুমাতে না পারার কথা। ম্যাচ শেষে জানান এমন উত্তেজনা নিয়ে ঘুমানো তার পক্ষে কঠিন হবে, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল মাথায় রেখে ঘুমাতে যাওয়া আজ আমার জন্য কঠিন হবে। আজ যেভাবে জিতলাম এতে আমরা সত্যিই খুশি। আমরা পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখে জিতেছি। দল এর জন্য খুব পরিশ্রম করেছে।’ এর সঙ্গে যোগ করেন, ‘এখন আমরা ফাইনালে। এটা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আজ যেভাবে খেলেছি এই ধারাবাহিকতা চালিয়ে গেলে ফাইনালও আমাদের জন্য ভালো হবে।’

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ডি মারিয়া যে এবারই প্রথম এমন নয়। ২০১৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এবারের ভেন্যু লিসবনেই ফাইনাল খেলে শিরোপা জিতেছিলেন এই আর্জেন্টাইন। সেই রকম উল্লাসে আবারও ভাসতে চান ডি মারিয়া, ‘আমরা ইতিহাস থেকে আর একধাপ দূরে। ফাইনালে ওঠাই একটা ঐতিহাসিক ব্যাপার কিন্তু শিরোপা জেতা আরও বড়। আমি এর আগেও চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলেছি। সে এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। আমাদের দলেও যথেষ্ট প্রতিভাবান ফুটবলার আছে। আমরা অবশ্যই রিয়াল মাদ্রিদের মতো সাফল্যময় কিছু করতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত