মহামারী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্বের অনেক অঞ্চলেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন। আবার অনেক অঞ্চলেই দেখা দিয়েছে নতুন সংক্রমণের ঢেউ। এর মধ্যে সব অঞ্চলেই চেষ্টা চলছে ঘুরে দাঁড়ানোর। তবে সংক্রমণ অনুপাতে আরোগ্যের হার ‘নতুন স্বাভাবিক জীবনে’ ফেরার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গতকাল পর্যন্ত দেখা গেছে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশেই ‘নতুন স্বাভাবিক জীবনে’ ফেরার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। কারণ এই অঞ্চলে করোনা আক্রান্তদের আরোগ্যের হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে কম। সেখানকার কয়েকটি দেশে নতুন করে লকডাউনের চিন্তা করছে কর্র্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫২ জনে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮৭৫ জনের। গতকাল অবশ্য করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ থেকে আরোগ্যের সংখ্যাও নতুন একটি মাইলফলক ছুঁয়েছে। এই মহামারী থেকে আরোগ্যের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দেড় কোটি। গতকাল পর্যন্ত মোট আরোগ্য লাভ করেছে অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ ৭০ হাজার ৩১৪ জন।
মহাদেশ হিসাবে এখন পর্যন্ত সবেচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে উত্তর আমেরিকায়। ওই মহাদেশে গতকাল পর্যন্ত ৬৬ লাখ ৭২ হাজার ৪৬৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে আরোগ্য লাভ করেছে ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৯ জন। মহাদেশটিতে আক্রান্ত অনুপাতে আরোগ্যের হার ৫৫ দশমিক ৩২ শতাংশ।
এর পরে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে এশিয়ায়। মহাদেশটিতে গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৫৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৭ জন। বিপরীতে আরোগ্য লাভ করেছে ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৮ জন। মহাদেশটিতে আক্রান্ত অনুপাতে আরোগ্যের হার ৭৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এই হার অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ আমেরিকায় গতকাল পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৫০৭ জন করোনা রোগী। বিপরীতে সেখানে আরোগ্য লাভ করেছে ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ১০৬ জন। এই হিসাবে মহাদেশটিতে করোনা থেকে আরোগ্যের হার ৭৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।
শুরুর দিকে করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত মহাদেশ ইউরোপে গতকাল পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৬ জন। মহাদেশটিতে এই সময় পর্যন্ত করোনা থেকে মুক্তি পেয়েছে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৩ জন। এই হিসাবে ইউরোপের করোনামুক্তির হার ৫৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বিশ্বজুড়ে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে আফ্রিকা মহাদেশে রোগটির প্রকোপ কম দেখা গেলেও দেখতে দেখতে সেখানেও ১১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে গতকাল পর্যন্ত। তবে সেখানে এরই মধ্যে ৮ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৮ জন করোনা রোগী আরোগ্য লাভ করেছে। এই হিসাবে মহাদেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে আরোগ্যের হার ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
জনসংখ্যা হিসেবে সবচেয়ে ছোট মহাদেশ ওশেনিয়ায়ও করোনা সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। মহাদেশটিতে গতকাল পর্যন্ত ২৬ হাজার ২৫১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিপরীতে সেখানে আরোগ্য লাভ করেছে ১৬ হাজার ৯৯৭ জন। এই হিসাবে মহাদেশটিতে আরোগ্যের হার ৬৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশে ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কভিড-১৯।
দেশ হিসাবে গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭ জন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে, ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার ২০৪ জন।
আর আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৮৭২ জন এবং এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১ লাখ ১০ হাজার ১৯ জন।
মৃতের সংখ্যায় ব্রাজিলের পরেই আছে মেক্সিকো। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৭ হাজার ৭৭৪ জন। আক্রান্ত হয়েছে ৫ লাখ ৩১ হাজার ২৩৯ জন।
করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। দেশটিতে করোনায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২৭ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭০ জন। মৃত্যুর দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে দেশটি। এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৫৩ হাজার ২৬ জন।
আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে রাশিয়া। দেশটিতে আক্রান্ত ৯ লাখ ৩২ হাজার ৪৯৩ জন। আর মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৭২ জন।
সুস্থতার দিক থেকেও প্রথম অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র (৩০ লাখ ১১ হাজার ৫৭৭ জন), দ্বিতীয় অবস্থানে ব্রাজিল (২৫ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৯ জন) এবং তৃতীয় অবস্থানে ভারত (২০ লাখ ৩৮ হাজার ৫৮৫ জন)।
