হঠাৎ শনাক্তের হার কমল

৮১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন শনাক্তের হার

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ০৪:৪১ এএম

দেশে হঠাৎ করেই নতুন করোনা রোগী শনাক্তের হার কমেছে। এক দিনের ব্যবধানে শনাক্তের হার কমেছে ৩ শতাংশের বেশি। গতকাল বুধবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৬৫তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৬৭৮টি নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৪৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ পরীক্ষায় ১৮ দশমিক ৭২ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। যেখানে দেশে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের গড় হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গতকালের শনাক্তের হার গত মে মাসের পরে সবচেয়ে কম। গত ৩০ মে ১৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তারপর থেকে গতকাল পর্যন্ত আর কোনো দিন রোগী শনাক্তের হার ১৯ শতাংশের নিচে নামেনি। গত মঙ্গলবার প্রায় এক মাস পর দেশে তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। সেদিনের চেয়ে গতকাল ৪৮টি পরীক্ষা বেশি হলেও শনাক্ত কমেছে ৪৫৩ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার কমলেও মৃত্যুতে তেমন পরিবর্তন হয়নি। অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪১ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃতদের মধ্যে ২১ জনই ঢাকা শহরের এবং বয়সের দিক থেকে ২৪ জনের বয়সই ষাটোর্ধ্ব। গতকাল অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৪টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৭৮টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ৭৪৭ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪১ এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯১৩ জন।

অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯১ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৭৮১ এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৮ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৫৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩৪ ও নারী ৭ জন। সর্বোচ্চ ২১ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনায় ৭, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুরে ৩ জন করে এবং ময়মনসিংহে ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৮ ও বাড়িতে ৩ জন। মৃতদের মধ্যে ৩১-৪০ বছরের ১, ৪১-৫০ বছরের ৫, ৫১-৬০ বছরের ১১ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী ২৪ জন।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৯৮৭ ও নারী ৭৯৪ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৯ ও নারী ২১ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮৫০, খুলনায় ৩০৯, রাজশাহীতে ২৫০, সিলেটে ১৭৪, রংপুরে ১৫৭, বরিশালে ১৪৭ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৮২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৭৩৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২০ হাজার ২৮০ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৪৭ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩ হাজার ৪৫৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ৫৬ হাজার ৪১১টি। এ সময় টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৯১ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৩ হাজার ৫৬৭ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বুলেটিনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৩৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৮০৭টি ও ৩০৬টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৯৩টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫৩১টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৭টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৬২৯টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১০৮টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত