১৫ আগস্টের কুশীলবদের খুঁজতে কমিশন চায় ১৪ দল

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২০, ০৪:৫৩ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল বুধবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।

জোটের সমন্বয়ক, মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, এ সভা থেকে অনেকেই ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের নায়কদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছেন। কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে তদন্ত করা হোক কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, কারা নেপথ্যে নায়ক ছিল। আমি ১৪ দলের পক্ষ থেকে এই দাবি জানাচ্ছি।

আমু বলেন, ‘১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতাকে সপরিবারে হারিয়েছিলাম। সেদিন হারাতে শুরু করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মূল্যবোধ। যে চার নীতির ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হয়েছিল, সেসব নীতি ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ দেশে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতির কোনো অনুমোদন ছিল না সংবিধানে, সেটা তুলে দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, আমাদের স্বাধীনতার চেতনা মূল্যবোধকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী কয়েকজন খুনির জবানবন্দিতে এটা পরিষ্কার যে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাকিস্তানিরা পারেনি, খন্দকার মোশতাক ও জিয়া দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেদিন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। সময় এসেছে একটা কমিশন গঠন করে তদন্ত করার। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, যারা বিদেশি তারা কারা? তদন্ত করলে প্রকৃত কুশীলবরা বেরিয়ে আসবে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে হত্যা করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। যারা স্বাধীনতা চায়নি, যে আন্তর্জাতিক শক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আমাদের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা পাকিস্তানের চর হিসেবে যারা আমাদের মাঝে ছিল তারা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে। নীল নকশার মাধ্যমে দেশকে হত্যা করার জন্য আমাদের স্বাধীনতা হত্যা করার লক্ষ্যে হত্যাকাণ্ড হয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ডের কুশীলব জিয়া-মোশতাকসহ যারা ছিল, তাদেরও বিচার হওয়া প্রয়োজন। একটি কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার করার প্রস্তাব করছি। এটা ব্যতিরেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার অপরিপক্ব হবে। জীবিত কুশীলবদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার পরিপূর্ণতা পাবে। পরবর্তী প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড কোনো ব্যক্তির হত্যা ছিল না, এটা ছিল রাজনীতিকে হত্যা, বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধের পথ থেকে সরিয়ে আনতে এবং স্বাধীনতার ঘোষণা সামাজিক ন্যায়বিচার থেকে সরিয়ে নেওয়ার হত্যাকাণ্ড। জিয়া সংবিধান খণ্ডবিখণ্ড করেছে। সময় এসেছে একটি কমিশন গঠন করে কুশীলবদের খুঁজে বের করার।’

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ড অবিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, শুধু এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড নয়, অথবা শুধু ক্ষমতার রদবদলের হত্যাকাণ্ড নয় এটা সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করা হয়নি, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র এবং সংবিধানের আত্মাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে পাকিস্তান পন্থার পথে, সাম্প্রদায়িকতার পথে, অপরাজনীতির পথে বাংলাদেশকে ঠেলে দেওয়ার একটা চেষ্টা মোশতাক ও জেনারেল জিয়াউর রহমান গং করেছিলেন।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত