লুকাশেঙ্কোর ২৬ বছরের সাম্রাজ্যে ধস

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ১২:২১ এএম

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে অবস্থান নিয়েছে ২ লাখেরও বেশি মানুষ। টানা ২৬ বছর ধরে দেশটির ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকে অনেকেই ইউরোপের শেষ স্বৈরশাসক বলেন। সিকি শতাব্দী ধরে ক্ষমতায় থাকার পর এই প্রথম বিপুল চ্যালেঞ্জের মুখে তার সাম্রাজ্য। লিখেছেন পরাগ মাঝি

সংঘাতের শুরু

গত ৯ আগস্ট বেলারুশে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে আবারও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। আর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সভেৎলানা তিখানোভস্কায়া পেয়েছেন মাত্র ১০.১২ শতাংশ ভোট। ভোটের এই বিপুল ব্যবধান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বেলারুশের সাধারণ মানুষ। কারণ ইতিপূর্বে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে পরাজিত প্রার্থী সভেৎলানা তিখানোভস্কায়ারও বিপুল জনসমর্থন রয়েছে দেশটিতে। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল যেন ঠিক তার উল্টো। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনের এমন অস্বাভাবিক ফলাফল মেনে নিতে নারাজ বেলারুশিয়ানরা। বিতর্কিত নির্বাচনকে ঘিরে বাড়তে শুরু করে গণ-অসন্তোষ। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই রাজধানী মিনস্কসহ দেশের বিভিন্ন শহরে চলতে থাকে বিক্ষোভ। অবশেষে গত ১৬ আগস্ট মিনস্কে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করে ২ লাখেরও বেশি মানুষ। এই বিক্ষোভ এখনো চলমান। লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। অন্যদিকে, বিক্ষোভ দমাতে পুলিশকে লেলিয়ে দেন লুকাশেঙ্কো। পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জে এখন পর্যন্ত ২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অসংখ্য। এছাড়াও অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষক দলও বেলারুশের নির্বাচনকে পক্ষপাতিত্বমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই নির্বাচনের বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে, বরাবরের মতোই লুকাশেঙ্কোকে সমর্থন করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লা দিমির পুতিন। বেলারুশ ইস্যুতে কাউকে নাক না গলাতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তাই অনেকেই মনে করছেন লুকাশেঙ্কোর পতন ঘটনোর পথটি এখনো সহজ নয়।

বেলারুশের ক্ষমতায়

১৯৯২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। এর মাত্র দুই বছর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি। বহুমুখী প্রতিভা এবং ট্রেডমার্ক গোঁফের জন্য তিনি অধিক পরিচিত। ‘গণমানুষের লোক’ বলে নিজের পরিচয় দিতে তিনি ভালোবাসেন।

বেলারুশের ক্ষমতায় আসার আগে সোভিয়েত আমলে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একটি ফার্ম পরিচালনা করে সমৃদ্ধি অর্জন করেছিলেন লুকাশেঙ্কো। এ সময় তার ডাকনাম ছিল ‘বাটকা’, যার অর্থ হলো- বাবা। ক্ষমতায় আসার পর নিজ দেশে সোভিয়েত ইউনিয়নের ঐতিহ্য ধরে রাখায় মন দেন বেলারুশ প্রেসিডেন্ট। আর এখানেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার যোগসূত্র। পুতিনের সঙ্গে তার ভ্রাতৃসুলভ সম্পর্ক রয়েছে।

পিতাসুলভ ব্যক্তিত্ব দিয়ে ক্ষমতায় এলেও ধীরে ধীরে ক্ষমতা ধরে রাখতে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠেন লুকাশেঙ্কো। ফলে বিরোধী দলগুলোর ওপর নিপীড়ন চালাতে শুরু করেন। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের কারারুদ্ধ করার পাশাপাশি গুম করে দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তার সরকারের বিরুদ্ধে।

ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে

একনায়কত্ব ধরে রাখতে দেশের গোপন সংস্থা কেজিবি’র ওপর নির্ভর করেন তিনি। ভেঙে যাওয়ার আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থার নাম ছিল কেজিবি। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও এই নামেই নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থা চালু রেখেছেন বেলারুশ প্রেসিডেন্ট। এই সংস্থাটিই দীর্ঘ বছর ধরে তাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর কড়া নজরদারি করে এই গোয়েন্দা সংস্থা। বেলারুশে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলেই তাকে হয় কারাবাসে যেতে হবে, নয়তো নির্বাসিত জীবন বেছে নিতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়াও লুকাশেঙ্কো এমনভাবে সংবিধানের আইনকানুন পরিবর্তন করেছেন যেন সহজে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো না যায়।

বেলারুশের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করলে কোনো নাগরিকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল হতে পারে। শুধু তাই নয়, বিদেশের মাটিতে বসেও যদি কেউ বেলারুশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেন তবে বিচারে তার দুই বছরের জেল হতে পারে। ইউরোপ ও ইউরেশিয়ার ফ্রিডম হাউস নামে একটি সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার সোফিয়া ওরলস্কি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার ২৬ বছরে ছয়টি নির্বাচন পরিচালনা করেছেন লুকাশেঙ্কো। তবে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিচারে এসব নির্বাচনের একটিও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তিনি একটি পুতুল-সদৃশ সংসদ চালাচ্ছেন যেখানে কোনো বিরোধী দল নেই।’

সোফিয়া আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় থেকে লুকাশেঙ্কো এমন কিছু আইন পাস করিয়েছেন যেগুলো দেশটির সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দিচ্ছে।’ ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’-এর ইনডেক্স অনুযায়ী, মুক্ত গণমাধ্যমের সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বেলারুশের অবস্থান ছিল ১৫৩ নম্বরে। তবে, কম অপরাধ ও শান্তিপ্রিয় দেশের তালিকায় পূর্ব ইউরোপিয়ান এই দেশটি সেরা দশের মধ্যে আছে।

বায়োগ্রাফি

লুকাশেঙ্গোর ব্যক্তিগত জীবনও বেলারুশের নাগরিকদের দৈনন্দিন আলোচনার খোরাক। স্কুলে পড়ার সময় যার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সেই গালিঙ্কাকেই তিনি বিয়ে করেছেন। বর্তমানে রাজধানী থেকে অনেক দূরবর্তী অঞ্চলের একটি খামারে গালিঙ্কা বসবাস করছেন। বিপুল নিরাপত্তার জন্য এই খামার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কোনো ধারণাই নেই। বহু বছর ধরে গালিঙ্কাকে কেউ দেখেনি। এমনকি তার কোনো ছবিও পারতপক্ষে কোথাও প্রকাশিত হয় না। অন্যদিকে, ৬৫ বছরের লুকাশেঙ্কোকে প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এক বিউটি কুইনের সঙ্গে দেখা যায়। ওই তরুণীর বয়স ২০-এর কোঠায়। বয়স্ক প্রেসিডেন্ট ও তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় মুখরোচক নানা গল্প প্রচলিত হলেও এসবের প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না ওই সুন্দরী।

১৯৯০ সালে বেলারুশের সংসদে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে লুকাশেঙ্কোর ক্ষমতায় উত্থান শুরু হয়। সংসদে দুর্নীতি দমন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তার ভূমিকা ছিল দারুণ প্রশংসনীয়। খুব সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন তিনি। বেলারুশের পূর্বাঞ্চলে একটি ছোট্ট গ্রামে স্বামীহীন মায়ের কাছে বড় হয়েছিলেন। পরে ১৯৭৫ সালে স্নাতক পাস করে শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হন। পরে রাজনীতির প্রশিক্ষক হিসেবে বাধ্যতামূলক সেবা দেন সেনাবাহিনীতে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তবে লুকাশেঙ্কোর অফিশিয়াল বায়োগ্রাফিতে তাকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বলা হয়নি। বায়োগ্রাফিতে তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধান যার বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর তিনি বহুগুণে গুণান্বিত। ১৯৯৪ সালের ১০ জুলাই পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে একটি কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৮০.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ৭৫.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি আবারও বেলারুশের প্রেসিডেন্ট হন। ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৮৩ শতাংশ। ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৭৯.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্টের পদ লাভ করেন। জীবনবৃত্তান্তে এর পরের দুটি নির্বাচনের তথ্য এখনো হালনাগাদ করা হয়নি।

বেলারুশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লুকাশেঙ্কোর প্রতি সমর্থন প্রকাশের জন্য মিনস্কের রাজপথে অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে র‌্যালি করে। তবে গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের বিপুল ফারাক রয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুকাশেঙ্কোর সমর্থনে ওই সমাবেশে বড়জোর ৫ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল।

লুকাশেঙ্কোর বেলারুশ

রাজধানী মিনস্কই বেলারুশের প্রাণকেন্দ্র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন নেতা ও শাসক স্তালিন এই শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সোভিয়েত আমলের নানা ঐতিহ্য ও চিহ্ন এখনো শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বেলারুশে বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত অন্তত চারটি স্থান রয়েছে। এর মধ্যে মির ও নেসভিজ শহরে থাকা দুটি প্রাসাদ অন্যতম। প্রায় প্রত্যেকটি শহরেই সাবেক সোভিয়েত শাসক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নামে অন্তত একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।

বেলারুশের সব রাস্তাঘাট ও পার্কগুলো এমনভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা যে, সেখানে কোনো ময়লা এমনকি দেয়ালে আঁকা কোনো গ্রাফিত্তিও চোখে পড়ে না। রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খলাও নেই কোনো। চাপ নেই ভারী গড়ির। প্রশস্ত লেনগুলো ট্রাফিক কখনো আটকে রাখে না। এমনকি রাস্তাঘাটে কোনো মানুষ সাধারণত উচ্চবাচ্যও করেন না। দেশের নাগরিকরা খুব ভদ্র ও শান্ত। রবিবার ছুটির দিনে তাদের বেশিরভাগই চার্চে গিয়ে ভিড় করেন। তিন দশক আগে সমাজতান্ত্রিক বিপর্যয়ের পর থেকেই বেলারুশিয়ানরা যেন আরও গভীর আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানে ডুব দিয়েছেন।

২০০৩ সালে লুকাশেঙ্কো নিজের মুখেই স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি স্বৈরাচারী স্টাইলে দেশ পরিচালনা করেন। অনেকের মতে, দেশ পরিচালনায় তার এমন স্বৈরাচারী মনোভাবের জন্য বেলারুশের মানুষ নিজস্ব মতপ্রকাশের সুযোগ পান না বললেই চলে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে দেশে দেশে লকডাউন জারি করা হলেও নিজ দেশের মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। অন্যান্য দেশে জারি করা লকডাউনকে তিনি কা-জ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, ভাইরাসকে দূরে রাখার জন্য নাগরিকদের তিনি ঘন ঘন ভদকা খাওয়ার পরামর্শ দেন।

বেলারুশই এখন পর্যন্ত ইউরোপের একমাত্র দেশ যেখানে এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আর এটি করা হয় খুব গোপন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। ধারণা করা হয় ১৯৯৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে তিন শতাধিক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পতনের মুখে সাম্রাজ্য

বর্তমান পরিস্থিতিতে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে লুকাশেঙ্কোর ২৬ বছরের সাম্রাজ্য। রাজধানী মিনস্কে অবস্থান নিয়ে বেলারুশ নাগরিকদের বিক্ষোভের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দীর্ঘ শাসন ক্ষমতায় এবারই প্রথম এমন তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হলেন লুকাশেঙ্কো। পুলিশি হামলা ও দমন-পীড়ন চালিয়েও বিক্ষোভকারীদের ঠেকানো যাচ্ছে না। উপরন্তু আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে এই হামলার সঙ্গে জড়িত ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর আগে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রত্যাখ্যান করেছে এই সংগঠন।  এই নির্বাচনের প্রসঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মের্কেল বলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ‘নির্বাচনে মারাত্মকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।’ এর আগে বেলারুশের ব্যাপারে নাক না গলানোর জন্য মের্কেলকে ফোন করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। পুতিনের শীতল হুমকি অগ্রাহ্য করেই বেলারুশের নাগরিকদের পক্ষে কথা বলেছেন মের্কেল।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ঘোষণা দিয়েছেন, বেলারুশের মানুষকে সমর্থন দেওয়ার জন্য কমিশন থেকে ৫৩ মিলিয়ন ইউরো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এই অর্থ বেলারুশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের যেসব কর্মী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তাদের আর কখনোই চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। পশ্চিমাদের সমালোচনা সত্ত্বেও বেলারুশিয়ান ইলেকশন কমিটি জানিয়েছে যে, আগামী দুই মাসের মধ্যেই যে কোনো সময় নতুন মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন লুকাশেঙ্কো।

পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকেই মনে করছেন নতুন মেয়াদে লুকাশেঙ্কোর শপথ নেওয়া সহজ নাও হতে পারে। অনেকের মতে, তার পতন আসন্ন। গত বুধবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বেলারুশের বিরোধী নেতা ভ্যালেরি টিসেপকালো এক ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই লুকাশেঙ্কোর পতন ঘটবে।’ ভ্যালেরি টিসেপকালো এই মুহূর্তে রাশিয়ার মস্কোতে অবস্থান করছেন। লুকাশেঙ্কোর ভয়েই তিনি সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে লুকাশেঙ্কোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। ফলে তার বদলে তার স্ত্রী ভেরোনিকা নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। সেই হিসেবে নির্বাচনে লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিন প্রার্থীই হলেন নারী। প্রেসিডেন্টের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সভেৎলানা তিখানোভস্কায়া ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশ লিথুয়ানিয়ায় পালিয়ে গেছেন। সেখান থেকেই বিক্ষোভকারীদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।

স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যালেরি টিসেপকালো আরও বলেন, ‘লুকাশেঙ্কোকে আর কেউ বিশ্বাস করে না। তিনি একজন মিথ্যাবাদী। সম্ভবত দুই সপ্তাহের মধ্যেই তার পতন হবে। আর বেশি দূর গড়ালে তা হতে পারে আগামী এক মাসের মধ্যেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত