তারেক জিয়ার ফাঁসি হলে সুস্থ হয়ে যাব : মাহাবুবা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ০৭:৫৩ এএম

‘কালকে যদি তারেক জিয়ার ফাঁসি হয় আমার মনে হয় আমি সুস্থ হয়ে যাব। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় বাবর, আবদুস সালামসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আমি সাক্ষী দিয়েছি এবং আদালতে বলেছি এই হামলার মূল হোতা তারেক জিয়া কোথায়? আমি তার ফাঁসি চাই। মৃত্যুর আগে এই হামলাকারীদের ফাঁসি দেখে যেতে চাই। বিনা অপরাধে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের স্বজন এবং আমরা যারা আহত হয়েছি সকলেরই একটাই দাবি।’ দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনটাই জানিয়েছেন গ্রেনেড হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেত্রী মাহাবুবা পারভীন।

তিনি বলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে পড়ে থাকার সময় শত শত লোক প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করে আমার শরীর ও পায়ের ওপর দিয়ে গেছে। বেঁচে থাকার কারণে আজও সেই ব্যথা আমাকে দুঃসহ যন্ত্রণা দেয়। মাঝেমধ্যেই ব্যথার কারণে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে যায়। গত মঙ্গলবারও পায়ের ব্যথার কারণে সিআরপিতে গিয়ে টেস্ট করিয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে পরামর্শ ও থেরাপি নিয়ে এসেছি। চিকিৎসক বলেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্যথার জন্য থেরাপি দিয়ে যেতে হবে।’

ওই দিনের ভুক্তভোগী মাহাবুবা পারভীন বলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় আহত হলে হার্ট অ্যাটাক হয় এবং ৭২ ঘণ্টা আইসিইউতে ভর্তি ছিলাম আমি। এরপর থেকেই শরীরের বাম পাশ প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেছি। বর্তমানে সেই অবস্থার উন্নতি হওয়ায় লাঠিতে ভর দিয়ে চলাচল করলেও এখনো বাম পায়ের হাঁটুতে মাঝেমধ্যে কট করে শব্দ হওয়ায় মনে হয় ভেঙে যাবে। এছাড়া শুয়ে থাকলে কাত কিংবা চিৎ হতে পারি না।’

‘কেউ খোঁজ নেয় না’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করতে গিয়ে সাভারের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা না পেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপার ভালোবাসা পেয়েছি। সাভারের বর্তমান কিংবা সাবেক সাংসদ কেউই সহযোগিতা তো দূরের কথা ফোন করেও খবর নেয়নি। তবে বর্তমানে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব মাঝেমধ্যে আমার খোঁজখবর নেয়। আমার দল স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমার জন্য কোনো ফান্ড তৈরি করেনি। আমার ছেলের অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার অফার লেটার গায়েব করে দিয়ে প্রতারণা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে তার কন্যার মতো ভালোবাসেন। তিনি দুবার দশ লাখ করে বিশ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন এবং প্রতিমাসে চিকিৎসার জন্য দশ হাজার করে টাকা দেন। বর্তমানে আমি ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। বিভিন্ন মিটিং-মিছিল ও দলীয় কর্মকা-ে অংশ নেওয়ার জন্য আমাকে ঢাকা যেতে হয়। সাভারের নেতাকর্মীদের অনেকেরই একাধিক গাড়ি থাকলেও আমার কোনো গাড়ি নেই। তাদের কাছে আমি এতই অবহেলিত যে, কেউ আমার খবর নেয়নি এবং কোনো ফান্ড তৈরি করেনি। অথচ অসুস্থ হওয়ার আগে দলীয় সব কর্মকা-ে আমি সবার আগে ছিলাম। আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে বাড়ির কাজে হাত দিয়েছি। বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে মালামাল এনেছি তারা টাকার জন্য ফোন করেন। আমি যেন ঋণগুলো পরিশোধ করতে পারি সেজন্য দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

আমি দুর্নীতি করব না, ঘুষ খাব না। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর বুকে আমার ছবি। দুর্নীতি ঘুষ এগুলো আমাকে মানায় না। আমি ইতিহাসের পাতায় শ্রেষ্ঠ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকার তদবির ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার বাসার গেট নেই, দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য কোনো গাড়ি নেই। এখন নুন আনতে পান্তা ফুরায়। অথচ আমি গ্রেনেড হামলার সেই দুঃসহ স্মৃতি এবং ওই মামলার সাক্ষী। এটাও কি সম্ভব?

খারাপ মানুষের আওয়ামী লীগে থাকার কোনো অধিকার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমার যতটুকু হায়াত আছে তা আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আপার জন্য উৎসর্গ করলাম। আমার সুন্দর জীবনটা দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করে দিলাম।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় অংশগ্রহণ করেন মাহাবুবা পারভীন। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শেষে ঠিক যখনই জয় বাংলা বলে সেøাগান দেবেন ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রাণঘাতী গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতে থাকে। চলে গুলিবর্ষণও। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশে চালানো হামলায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী নারীনেত্রী আইভী রহমানসহ ২৬ জন নিহত হন। আহত হয় কয়েকশ মানুষ। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া মাহাবুবা শরীরে ১৮শ স্পিøন্টার নিয়ে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বা হাত এখনো অচল, চোখে কম দেখেন, ডান কানে কম শোনেন, তার শরীরের চামড়ার ভেতরে ঘা হয়ে গেছে। কষ্ট হলেও মাহাবুবা পারভীন এখনো মাঝেমধ্যেই দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত