শুধু অফিসেই না গবেষণা থেকে শুরু করে পড়াশোনাতেও এখন প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। শিক্ষার্থী থেকে পেশাজীবী-কমবেশি সবাইকেই এ বিষয়ে ভাল স্কিল থাকতে হয় তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে।
যে যত বেশি ভালো প্রেজেন্টেশন দিতে পারে, স্বাভাবিকভাবে অফিসে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। বসদের নির্ভরশীলতাও তৈরি হয় তার উপরে।
তবে প্রাযুক্তিক কারিগরি সেইসঙ্গে অন্যের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার বিষয় হওয়ায় ভালো প্রেজেন্টেশন দেয়ায় দক্ষ হতে সময় লাগে।
ভালো প্রেজেন্টেশনের জন্য প্রাযুক্তিক জ্ঞান, অন্যান্য পড়াশোনা, যোগাযোগ দক্ষতা, কথা বলায় সাবলীল- এসব বিষয় জরুরি।
আসুন জেনে নিই, কীভাবে একটি ভালো প্রেজেন্টেশন দেয়া সম্ভব হয়।
১. প্রাযুক্তিক জ্ঞান
স্বাভাবিকভাবেই সবার আগে আপনাকে প্রেজেন্টেশনের জন্য স্লাইড বানাতে হবে। স্লাইড বানানোর জন্য দরকারি গ্রাফিক্স, গ্রাফ বসানো বা সাজানোর বিষয়গুলো ভালো মতো রপ্ত থাকা চায়। সেইসঙ্গে প্রেজেন্টেশনের আগে ল্যাপটপ, ইন্টারনেট কানেকশন, প্রজেকশন সিস্টেমসহ নানা কানেকশন নিয়ে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে। যাতে প্রজেকশন শুরুর পর কোনো ধরনের গোলযোগ তৈরি না হয়।
২. শ্রোতা বুঝে প্রেজেন্টেশন
কোন ধরনের কাজে বা প্রজেক্টের জন্য প্রজেকশন দিবেন তার শ্রোতা বা উপস্থিতির ওপরে সাজাতে হবে আপনার প্রেজেন্টেশন। আপনি যদি গবেষক বা পরামর্শক হন তখন আপনার প্রেজেন্টেশনের প্রতিটা স্লাইড হয়তো নাম্বার, আর্টিকেল, জার্নালের রেফারেন্স, গ্রাফ দিয়ে ভরপুর থাকবে। ঠিকঠাক পরিসংখ্যান আপনার কাছ থেকেই আশা করবে শ্রোতারা। একইভাবে কর্পোরেট অফিসে কীভাবে প্রেজেন্টেশন দিলে শ্রোতাদের মনঃপুত হবে, সেটি আপনাকে আগ থেকে চিন্তা করে নিতে হবে।
৩. স্লাইড প্রতি একটা পয়েন্ট
আপনি চাইলে একটি স্লাইডে অনেকগুলো পয়েন্ট বলে দিতে পারেন। কিন্তু এতে শ্রোতারা মনোযোগ হারাবে। স্লাইড সরতেই এতগুলো পয়েন্ট একসঙ্গে মনে রাখা সম্ভব হবে না, কারণ নতুন স্লাইডে এসে হাজির হবে আরও নতুন পয়েন্ট। ফলে স্লাইড প্রতি এক পয়েন্ট নিয়ে কথা বলুন। পারলে একটি পয়েন্ট বোঝানোর জন্য কয়েকটি স্লাইড ব্যবহার করতে পারেন। একটা স্লাইডের জন্য অন্তত ১-২ মিনিট বরাদ্দ থাকা উচিত।
৪. শ্রোতাদের বুঝতে সময় দিন
আপনি একাই স্লাইডের পর স্লাইডে দেখিয়ে গেলেই চলবে না। শ্রোতাদেরও সময় দিতে হবে পয়েন্টগুলো অনুধাবনের জন্য। এর মধ্যে শ্রোতা কোনো কিছু জানতে চাইলে প্রজেকশন বিরতি দিয়ে তার উত্তর দিতে পারেন।
৫. স্লাইডের পাশাপাশি বাচিক ক্ষমতা
স্লাইডের পয়েন্টগুলো আপনাকেই বুঝিয়ে দিতে হবে শ্রোতাদের। ফলে স্লাইডের দিকে চোখ থাকলে শ্রোতার কান কিন্তু আপনার দিকে। এখন প্রেজেন্টেশনের বিষয়বস্তু শ্রোতাদের সুন্দর করে বুঝিয়ে দিতে আপনার বাচিক ক্ষমতা ভালো হতে হবে। আপনার বক্তব্য শুনতে যাতে শ্রোতা আগ্রহী হয়।
৬. লম্বা প্রেজেন্টেশনে বিরতি
লম্বা প্রেজেন্টেশনে শ্রোতা স্বাভাবিকভাবেই হাঁপিয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে মাঝখানে বিরতি দিতে পারেন। প্রেজেন্টেশনের মাঝখানে অন্তত ১০-১৫ মিনিট সাময়িক বিরতি দিতে পারেন। এতে শ্রোতারা মানসিকভাবে চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ পাবে।
৭. জটিল কোনো স্লাইড নয়
কোনো স্লাইডেই জটিল কোনো গ্রাফ বা প্রচুর কথাবার্তা লেখা থাকলে শ্রোতারা ক্লান্ত হয়ে যাবে। স্লাইডে লেখার ফন্ট বেশি ছোট হলেও শ্রোতার চোখের ওপর চাপ বেড়ে যাবে। ফলে শ্রোতাদের সঙ্গে স্লাইডের দূরত্ব অনুসারে সহনীয় ফন্টে সাজাতে হবে আপনার স্লাইড। শ্রোতা বেশি হলে ফন্ট সাইজ রাখুন ১৮ এর উপরে আর ছোট হলে ১৪।
৮. শ্রোতাদের সংযুক্ত করুন
শুধু স্লাইডের পর স্লাইড দেখিয়ে গেলেই দ্রুত শ্রোতা হারাতে হবে আপনাকে। প্রেজেন্টেশনের মাঝখানে বা প্রয়োজন অনুসারে শ্রোতাদের সংযুক্ত করতে পারেন। তাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে উত্তর দিন। আপনার বক্তব্য হতে হবে শ্রোতার চোখের দিকে তাকিয়ে। তাহলে শ্রোতাদের মনোযোগ ধরে রাখতে সহজ হবে।
