জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী (২৬) ধর্ষণের শিকার হয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। ওই নারীর প্রতিবেশী দাদা ও চাচার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকার প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই নিয়ে দরিদ্র ভুক্তভোগী পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরসভার কাজীপাড়া গ্রামে সরকারের টিআর কর্মসূচির আওতায় একটি বাড়ি পান ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মা। গত কয়েক মাস আগে থেকে প্রতিবেশী দাদা দুখু মিয়া ওরফে দুকা (৬০) ও চাচা রয়েল দেওয়ান (২৭) মানসিক ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। কিছুদিন পর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে দুখু মিয়ার বোনকে চলতি মাসে ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, ‘আমার সঙ্গে যে ধরনের কাজ হয়েছে তার বিচার ও শাস্তি চাই।’ ভুক্তভোগীর মা বলেন, দুকার বোন আমার কাছ থেকে গর্ভপাতের জন্য ৯ হাজার টাকা নিয়ে ফেরৎ দেয়নি। পেটে বাচ্চা জীবিত না মৃত তাও জানি না। বিচারের জন্য কোথাও যাওয়ার ক্ষমতা নেই। আমার মেয়ের ক্ষতি যারা করেছে তাদের বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে দুকা মিয়ার বোন বলেন, ‘আমাকে পরীক্ষা করার জন্য ভাড়ার টাকা দিয়ে মেয়ের মা পাঠিয়ে দিয়েছিল। ওখানে কাঠি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে গর্ভে বাচ্চা নেই। আমার ভাইকে ফাঁসানোর জন্য এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।’
অভিযুক্ত দুখু মিয়া বলেন, ‘আমি তো এলা জানি না, বাহিরে ঘুরে শুনতেছি আমার নাম, ভাচতার নাম, ওর নাম কওচে। বাচ্চা হলে ডিএনএ টেস্ট করে আমার ঘাড়ে পড়লে হামি নিমো, ভাচতার ঘাড়ে পড়লে ভাচতা লিবে, আর অন্য যদি কেউ পড়ে তাহলে তাই লিবে, যারটা মিলবে সে দোষী হবে।’
ক্ষেতলাল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল ইসলাম বুলু বলেন, বৃহস্পতিবার ঘটনার খবর পেয়ে ওইদিন রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ধর্ষণ সংক্রান্ত ঘটনা। সর্বপ্রথম ওই মেয়েটিকে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। আর এসব আমাদের বিচার করার এখতিয়ারের বাইরে। তাই তাদের ঊর্ধ্বতন আদালতের পরামর্শ দিয়েছি।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ নীরেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে অবশ্যই তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আশুলিয়ায় নারী শ্রমিককে দল বেঁধে ধর্ষণ : আশুলিয়ায় এক নারী শ্রমিককে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তিন বখাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার থেকে অভিযুক্ত বখাটে মমিন ও রফিকুলকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
আটকৃকতরা হলো, নাটোর জেলার সিংড়া থানা এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মো. মমিন (২৫) এবং মানিকগঞ্জের সদর থানা এলাকার রফিকুল ইসলাম। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরিফ নামে এক বখাটে পলাতক রয়েছে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী এক নারী শ্রমিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং আরিফ নামে আরও একজন পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের আদালতে এবং ভুক্তভোগী ওই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
