কভিডের তাণ্ডব দীর্ঘ সময় চলমান থাকলেও এর ভয়াবহতা থেকে বেরিয়ে আসার নির্ভরযোগ্য কোনো দিকনির্দেশনা দেখা যাচ্ছে না। তবে সার্স কোভ-২-এর চরিত্র বিশ্লেষণে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট যে, এটি মুখ, নাক ও চোখ দিয়ে শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে। সুতরাং প্রবেশদ্বার সুরক্ষায় কোনো আপস নয়। মুখ সবচেয়ে বড় প্রবেশপথ, তাই মুখ ও নাকের সুরক্ষায় যথানিয়মে মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। করোনা মহামারীর এ সময়ে মুখগহ্বরের যত্নে অধিক সচেতনতার বিষয়ে জোরালোভাবে বলা হচ্ছে।
মুখ পরিষ্কারের নিয়ম
যেহেতু মুখের মধ্যে এ ভাইরাস কিছু সময় অবস্থান নিয়ে ওপরের শ্বাসতন্ত্র দিয়ে ফুসফুসে যায়, তাই নিয়মিত সঠিক নিয়মে মুখের অভ্যন্তরসহ গলার কাছ পর্যন্ত পরিষ্কার রাখতে হবে। সাবান করোনাভাইরাস প্রতিহত করতে সর্বাধিক সহজ কার্যকর মাধ্যম হলেও মুখের অভ্যন্তরে টুথ পেস্ট ফেনা করে দাঁত ব্রাশ মুখের অভ্যন্তরকে অনেকটাই নিরাপদে রাখতে পারে। অন্যদিকে সঠিক মাত্রার পোভিডন আয়োডিন মাউথ ওয়াশেও আছে ভাইরাসনাশক গুণাবলি, বাজারজাতে মাউথ ওয়াশ চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে। সবমিলিয়ে বলা যায়, বাইরে থেকে বাসায় ঢুকে সঙ্গে আনা যাবতীয় সবকিছুকে ধরন বুঝে ভাইরাসমুক্ত করার পাশাপাশি নিজেকে এবং নিজের মুখগহ্বর পরিষ্কার করাটাও অতি জরুরি। উষ্ণ পানিতে লবণ মিশিয়ে গারগল করলেও উপকারে আসতে পারে।
বিশেষ এক গবেষণা দাবি করা হয়েছে, অবহেলিত মুখের মাড়ি থেকে বিশেষ কিছু ব্যাকটেরিয়া কভিড রোগীর ফুসফুসে গিয়ে নতুনভাবে সংক্রমণ করতে সক্ষম, যা কভিডের জটিলতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ডায়াবেটিস জটিলতা
বেশ কিছু গবেষণা প্রমাণ করেছে মাড়িরোগের সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি মাড়িরোগ ইনসুলিনের কার্যকারিতা হ্রাস করে, ফলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে না। ইতিমধ্যে দেখা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের কভিডের জটিলতা অনেক বেশি, সে ক্ষেত্রে মুখের যতেœ উদাসীনতার কোনো সুযোগ নেই।
রক্তবাহিকার পথে বাধা
মাড়ির রোগ থেকে জীবাণু এবং তাদের তৈরি বর্জ্য রক্তপ্রবাহে মিশে রক্তনালির মধ্যকার স্বাভাবিক সঞ্চালনে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। স্ট্রোকের একটি কারণ হিসেবে মাড়িরোগের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলছেন গবেষকরা। কভিডে থ্রম্বোসিস বা রক্তজমাট বাঁধার বিষয়টি এখন স্পষ্ট, সেই সূত্রে কভিডকালে মাড়িরোগের বিষয়টিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা
গবেষণা বলছে, ডেন্টাল রোগ থেকে সংক্রমণ রক্তে মিশে লিভার, কিডনি, হাড় বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। গর্ভকালীন জটিলতা তৈরি করতে পারে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই কভিডের এ সময়ে সবার সরকারি স্বাস্থ্য বিধিনিষেধ পালনের পাশাপাশি মুখের যত্নকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। জীবিকার প্রয়োজনে যতটুকু বাইরে যাওয়া যায়, তার অতিরিক্ত না যাওয়াটাই এখনো নিরাপদ। দীর্ঘদিন ধরে টেস্টের ২২ থেকে ২৫ শতাংশ শনাক্তের বিষয়টিকে কোনো অবস্থাতেই সহজভাবে দেখার সুযোগ নেই। সচেতনতাতেই নিরাপত্তা।
